দেশের বাইরে নিজের কোনো ধরনের অবৈধ সম্পদ বা বিনিয়োগ থাকার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপির) মুখপাত্র এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, তার বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচার বা সম্পত্তি অর্জনের যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, তার সামান্যতম সত্যতাও যদি কেউ প্রমাণ করতে পারে, তবে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে রাজনীতি থেকে চিরতরে বিদায় নেবেন।
নিজের ওই ফেসবুক পোস্টে আসিফ মাহমুদ আরও যোগ করেন যে, বিদেশে কারও সম্পত্তি বা ব্যাংক হিসাবের তথ্য উদঘাটন করা বর্তমান সরকারের জন্য কোনো জটিল বিষয় নয়। এর আগে বিভিন্ন সময়ে অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও সরকারের পক্ষ থেকে রাজনীতিবিদ এবং ব্যবসায়ীদের গোপন সম্পদের তথ্য সফলভাবেই জাতির সামনে প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু সেটির পরিবর্তে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি ভুঁইফোঁড় পোর্টাল কিংবা পুরোনো ফেসবুক পোস্টের বিষয়বস্তু কপি-পেস্ট করে তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনা করে সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, ক্ষমতাসীনরা মাত্র কয়েকমাসের মধ্যেই বিরোধী দলকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। মূলত নিজেদের অদক্ষতা ঢাকতে এবং তরুণ প্রজন্মের প্রকাশ্য দুর্নীতি ও অনিয়মের ইস্যু থেকে জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্যই এসব নাটক মঞ্চস্থ করা হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। বিরোধী মত দমনে বর্তমান সরকারের কৌশল অতীতের ফ্যাসিবাদের অনুসারীদের সঙ্গেই মিলে যায় বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে বিদেশে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার ও সম্পত্তি অর্জনের অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু আলোচনা ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রতিক্রিয়ায় তার পক্ষ থেকে এই কঠোর অবস্থান ও চ্যালেঞ্জ ঘোষণা করা হয়। নিজের সততা ও স্বচ্ছতার পক্ষে সাফাই গেয়ে তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দেন যে, এসব মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে তাকে রাজনৈতিক ময়দান থেকে হটানো যাবে না এবং যে কোনো ধরনের আইনি বা প্রশাসনিক তদন্তের মুখোমুখি হতে তিনি সবসময় প্রস্তুত আছেন।