মার্কিন সামরিক অভিযানের এক তফসিলি বিরতি ফিরলেও ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ এখনো কার্যকর আছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র; তবে টানা তেরো রাতের বিমান ও নৌ হামলার পর অভিযান স্থগিত রাখা হয়েছে। ওয়াশিংটন কোনো আনুষ্ঠানিক কারণ বললেও স্থানীয় কূটনীতি সর্তক করে: হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গত শুক্রবার ওমান থেকে একটি প্রতিনিধিদল তেহরানে পৌঁছানোর পর যুক্তরাষ্ট্র আর হামলা চালায়নি, এবং এর পর থেকেই ইরানও প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর নতুন কোনো আক্রমণ করেনি। নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আপাতত ইরানের বিরুদ্ধে আরও বড় ধরনের সামরিক উসকানিমূলক অবস্থান থেকে সরে এসেছেন; সম্ভাব্য বিস্তৃতি, গোলাবারু কমে যাওয়া, উপসাগরীয় মিত্রদের দূরে সরে যাওয়ার আশঙ্কা ও জ্বালানি ও বিশ্ব অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব এগুলো মূল কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সিএনএন জানিয়েছে, হোয়াইট হাউজে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন ট্রাম্পকে গোলাবারুর মজুদের বিষয়ে উদ্বেগ জানান; প্রতিরক্ষা দপ্তরের এক সূত্র জানায় আপাতত সামরিক কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। অন্যদিকে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনি হুথি বাহিনী লোহিত সাগর উপকূলে সৌদি তেল স্থাপনা ও কিং খালিদ বিমান ঘাঁটিতে হামলা চালায় এবং বাব-আল মান্দেব পথ অবরোধের হুমকি দেয়ার পর দিয়ে লোহিত সাগরে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। হুথিরা কয়েকটি জাহাজে হামলা করেছে ও ইয়ানবুতে তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে; হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এসব হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ থেকে লোহিত সাগর পর্যন্ত দুর্বল জ্বালানি রুটে সমস্যা ছড়ালে যুদ্ধের প্রভাব আরও বিস্তৃত হতে পারে এবং ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধও তীব্র হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
একই সময়ে কাস্পিয়ান সাগরে ঘটে যাওয়া এক ঘটনায় তেহরান ইউক্রেনকে দায়ী করেছে — এক বাণিজ্যিক ইরানি জাহাজে হামলায় একজন নাবিক নিহত হন ও আরেকজন আহত হন; 이에 ইরান তেহরানে নিযুক্ত ইউক্রেনের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে তলব করে প্রতিবাদ জানায়। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি meanwhile অভিযোগ করেছেন, রাশিয়া ইরানকে স্যাটেলাইট তথ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে আক্রমণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণে সহায়তা করছে। (উৎস: Jagonews24)