September 15, 2026, 10:30 am

ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ আসামির বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ

Reporter Name
  • Update Time : Tuesday, September 15, 2026
  • 16 Time View

জুলাই মাসে সংঘটিত ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে করা মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই আসামিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সহিংসতায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ উসকানি প্রদান, নাশকতার জন্য অর্থের জোগান দেওয়া এবং গভীর ষড়যন্ত্রের মতো গুরুতর অপরাধের সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এই মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর রায়ের দিন ধার্য করা হয়েছে এবং বিচারিক প্যানেল বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে। গত ১৫ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায় ঘোষণার জন্য দিন নির্ধারণ করেছিলেন।

এই মামলার তালিকাভুক্ত অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দলটির বিভিন্ন শীর্ষ পর্যায়ের নেতা ও অঙ্গসংগঠনের প্রধানরা। ওবায়দুল কাদের ছাড়াও অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন দলটির তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল। এছাড়া ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানকেও এই মামলায় আসামি করা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, বিচার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মোট ২৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়েছে। সাক্ষ্যপ্রমাণের পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কল রেকর্ড, প্রাতিষ্ঠানিক ও দালিলিক প্রমাণপত্র, জাতিসংঘের তৈরি বিশেষ প্রতিবেদন এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য-উপাত্ত ট্রাইব্যুনালে প্রমাণ হিসেবে দাখিল করা হয়েছে। সকল পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন সম্পন্ন হওয়ার পর ট্রাইব্যুনাল গত ১৭ আগস্ট মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ বা সিএভি রেখেছিলেন।

প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালে তুলে ধরা অভিযোগে বলা হয়েছে যে, তৎকালীন সরকার রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে এবং ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ও তাদের জোট রাজনৈতিক কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়ে আন্দোলন দমনের অপচেষ্টা চালিয়েছিল। বিভিন্ন সময় আয়োজিত সভা-সমাবেশ থেকে দলের নেতাকর্মীদের আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালানোর জন্য উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া হয়েছিল এবং সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছিল। একই সঙ্গে আন্দোলন দমনের ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে গণমাধ্যমগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয় এবং সংঘাতের চিত্র প্রকাশ করলে সংবাদমাধ্যমগুলোকে বন্ধ বা রাষ্ট্রবিরোধী হিসেবে ঘোষণা করার হুমকি দেওয়া হয়। প্রসিকিউশন আরও জানিয়েছে যে, ওবায়দুল কাদের সরাসরি তৎকালীন ছাত্রলীগের সভাপতিকে আন্দোলনকারীদের ওপর চড়াও হওয়ার নির্দেশ দিয়ে আক্রমণ করার কথা বলেছিলেন। এছাড়া তৎকালীন আইসিটি প্রতিমন্ত্রীকে টেলিফোন করে ইন্টারনেট পরিষেবা ধীরগতি করার নির্দেশ দেওয়ার তথ্যও ট্রাইব্যুনালে প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, যার ফলশ্রুতিতে পরবর্তীতে দেশব্যাপী ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত হয়েছিল।

কেন্দ্রীয় নেতাদের নিজেদের মধ্যকার বিভিন্ন ফোনালাপে আন্দোলন দমনের জন্য তহবিল গঠন এবং আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনকে আর্থিক সহায়তা দিয়ে রাজপথে নামানোর চাঞ্চল্যকর তথ্যও উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন টিম। রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেছেন যে, আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত প্রতিটি অভিযোগ তারা সাক্ষ্যপ্রমাণ ও দালিলিক তথ্যের মাধ্যমে সন্দেহাতীতভাবে আদালতে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন। বিচার প্রক্রিয়ায় আসামিদের অপরাধ পূর্ণাঙ্গভাবে প্রমাণিত হওয়ায় রাষ্ট্রপক্ষ থেকে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত হওয়ার বিষয়ে প্রবল আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ট্রাইব্যুনালের রায়ের মধ্য দিয়ে জুলাই অভ্যুত্থানে সংঘটিত অপরাধের বিচারপ্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © ajkerdorpon.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com