September 14, 2026, 10:47 pm

নামাজের ঘরে ঝুলছিল ব্যাংকারের মরদেহ, চিরকুটে ঋণ-বদলি-মামলার কথা

Reporter Name
  • Update Time : Monday, September 14, 2026
  • 1 Time View

চট্টগ্রাম নগরের হালিশহর এলাকা থেকে জনতা ব্যাংকের এক শাখা ব্যবস্থাপকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় পুলিশ। নিহত ব্যাংক কর্মকর্তার নাম মোহাম্মদ আবুল হোসাইন (৪৫), যিনি খোরশেদবাগ আবাসিক এলাকার ইম্পিরিয়াল আরকিট ভবনের একটি ফ্ল্যাটে সপরিবারে বসবাস করতেন। গত ১৪ সেপ্টেম্বর ভোরে ওই ফ্ল্যাটের ভেতর থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয় এবং পরে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে মরদেহটি মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর নিহতের স্ত্রী শারমিন আক্তার বাদী হয়ে হালিশহর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ প্রাথমিক তদন্ত ও সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন করেছে।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগের দিন রাতে স্বাভাবিক খাওয়া-দাওয়া শেষে সবাই নিজ নিজ কক্ষে ঘুমাতে যান। ভোরে ফজরের নামাজ আদায় করার উদ্দেশ্যে শারমিন আক্তার ঘুম থেকে উঠে ওই নির্ধারিত ঘরের সামনে যান। দীর্ঘক্ষণ দরজা বন্ধ থাকার পর তিনি ধাক্কা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং সিলিং ফ্যানের সঙ্গে চাদর পেঁচানো অবস্থায় তার স্বামীর মরদেহ ঝুলতে দেখেন। তার আত্মচিৎকারে পরিবারের অন্য সদস্যরা দ্রুত সেখানে ছুটে আসেন এবং গলায় পেঁচানো চাদর কেটে তাকে নিচে নামান। পরবর্তীতে জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করে বিষয়টি জানানো হলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।

ঘটনাস্থল তল্লাশি করে পুলিশ একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা এই মৃত্যুর পেছনে থাকা কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে। ওই চিরকুটে মোহাম্মদ আবুল হোসাইন তার পেশাগত জীবন ও ব্যক্তিগত জীবনের নানা মানসিক চাপের কথা বিস্তারিত তুলে ধরেছেন। বিশেষ করে, মোহাম্মদপুর জেনারেল ব্রাঞ্চের দায়িত্ব পালনের সময় ঋণ প্রদান সংক্রান্ত জটিলতা, কর্মস্থল বদলি এবং পেশাগত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তিনি তীব্র মানসিক কষ্টে ভুগছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছে নিজের পাওনা টাকা আদায় করতে না পারায় তিনি গুরুতর আর্থিক সংকটেও পড়েছিলেন।

চিরকুটের তথ্যানুযায়ী, ২০২১ সালে লালদিঘী শাখার ব্যবস্থাপক থাকাকালীন একটি চেক সংক্রান্ত ঘটনায় সম্প্রতি তার এবং কয়েকজন সহকর্মীর বিরুদ্ধে একটি সিআর মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটির বিষয়ে তিনি মাত্র কিছুদিন আগেই অবগত হন এবং এই আইনি জটিলতার কারণে গত দুই থেকে তিন সপ্তাহ ধরে তিনি রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারতেন না। চিরকুটের শেষ অংশে তিনি পরিবারের সদস্যদের ভালোমতো দেখাশোনা করার আকুতি জানান এবং নিজের এই মৃত্যুর জন্য কাউকেই দায়ী না করার অনুরোধ করেন। হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © ajkerdorpon.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com