বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা আয়ুষ্মান খুরানার জীবনযাত্রা এবং আর্থিক সাফল্য অনেকের জন্যই অনুপ্রেরণাদায়ক। একসময়ে যার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা ছিল মোটে দশ হাজার টাকা, বিভিন্ন আর্থিক সূচক ও গণমাধ্যমের হিসাব অনুযায়ী বর্তমানে তার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৮০ কোটি টাকা ছুঁয়েছে। অভিনয়, সংগীতচর্চা, টেলিভিশন সঞ্চালনা, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপন এবং নানামুখী বাণিজ্যিক বিনিয়োগের মাধ্যমে তিনি এই বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন। দীর্ঘ মেহনত ও সততার সঙ্গে কাজ করে তিনি আজ বিনোদন দুনিয়ায় নিজের একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন।
তার এই সাফল্যের পথচলা কখনোই মসৃণ ছিল না, বরং দীর্ঘ সংগ্রাম ও ধৈর্যের পরীক্ষা দিয়ে তাকে আজকের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে হয়েছে। বড় পর্দায় নাম লেখানোর আগে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে মঞ্চনাটক, বেতার এবং ছোটপর্দায় কাজ করে নিজের দক্ষতা শাণিত করেছিলেন। ২০০৪ সালে একটি জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শোয়ের শিরোপা জিতে তিনি প্রথম জনসমক্ষে আসেন এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন অনুষ্ঠান উপস্থাপনার মাধ্যমে নিজের পরিচিতি বাড়ান। শেষ পর্যন্ত ২০১২ সালে সুজিত সরকার পরিচালিত ‘ভিকি ডোনর’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে মূলধারার সিনেমায় তার আত্মপ্রকাশ ঘটে, যা তার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
প্রথম ছবিতেই চিরাচরিত নায়কের ছাঁচ ভেঙে এক ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয় করে তিনি দারুণ প্রশংসিত হন এবং শ্রেষ্ঠ নবাগত হিসেবে পুরস্কার অর্জন করেন। এরপর একে একে ‘দম লগা কে হইশা’, ‘অন্ধাধুন’, ‘বধাই হো’ ও ‘আর্টিকল ১৫’-এর মতো ব্যতিক্রমী গল্পের চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি নিজের অভিনয় প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন। বিশেষ করে ‘অন্ধাধুন’ সিনেমায় অন্ধ পিয়ানোবাদকের জটিল চরিত্রে অনবদ্য অভিনয়ের সুবাদে তিনি ভারতের মর্যাদাপূর্ণ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। সামাজিক বার্তা এবং সম্পর্কভিত্তিক গল্পের প্রতি তার এই পক্ষপাতই তাকে অন্যান্য তারকাদের থেকে আলাদা করে তুলেছে।
চলচ্চিত্রের খ্যাতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই তার পারিশ্রমিক এবং আয়ের পরিধি নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী তিনি প্রতিটি চলচ্চিত্রের জন্য আট থেকে পনেরো কোটি টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক গ্রহণ করে থাকেন। অভিনয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন বহুজাতিক ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপন এবং কৌশলগত বিনিয়োগ থেকেও তার নিয়মিত মোটা অঙ্কের আয় আসে। পেশাগত অর্জনের বাইরে তিনি ব্যক্তিগত জীবনেও সুখী, যেখানে তিনি ২০০৮ সালে তার দীর্ঘদিনের বন্ধু ও জীবনসঙ্গী তাহিরা কশ্যপকে বিয়ে করেন এবং বর্তমানে তারা দুই সন্তানের অভিভাবক। শূন্য থেকে শুরু করা সেই তরুণ আজ শুধু বিত্ত-বৈভবের দিক থেকেই নন, বরং স্বকীয় অভিনয়শৈলীর মাধ্যমে কোটি মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী আসন গেড়েছেন।