March 23, 2026, 3:17 pm
Title :
ইরান যুদ্ধ থামাতে নতুন উদ্যোগ নিলো তুরস্ক যেকোনো সময় বন্ধ হতে পারে দেশের সমস্ত পেট্রল পাম্প পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে: ইরান আচমকা ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ আছড়ে পড়লো ভারতীয় নাগরিকের ওপর গতকালের হামলায় কেউ নিহত না হওয়াকে ‘মিরাকল’ বললেন নেতানিয়াহু ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিলেন ট্রাম্প, বিশ্ববাজারে বাড়লো তেলের দাম বিয়ের একদিন আগে নাটোরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেলো যুবকের জায়মা রহমানের চেলসি দলে সুযোগ পাওয়া প্রসঙ্গে অবস্থান পরিষ্কার করলেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে আইসিই এজেন্ট মোতায়েনের ঘোষণা কক্সবাজার সৈকতের বালিয়াড়িতে কোনো স্থাপনা থাকবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কক্সবাজার সৈকতের বালিয়াড়িতে কোনো স্থাপনা থাকবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Reporter Name
  • Update Time : Monday, March 23, 2026
  • 9 Time View

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত পরিদর্শন করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আজ রোববার বিকেলে সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, কক্সবাজার সৈকত দখল করে গড়ে ওঠা বালিয়াড়িতে কোনো স্থাপনা থাকবে না। এরই মধ্যে ভাসমান দোকানসহ বিভিন্ন স্থাপনা উচ্ছেদ শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সৈকতের নাজিরারটেক থেকে টেকনাফ পর্যন্ত এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি যারা প্রকৃত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তাদেরকে পুনর্বাসন করা হবে।

এর আগে গত ৯ মার্চ কক্সবাজার জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এক সপ্তাহের মধ্যে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের বালিয়াড়িতে ভাসমান অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এর পরিপ্রেক্ষিতে সৈকতের সুগন্ধা ও কলাতলীতে অভিযানে ৫ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে প্রশাসন। এই উচ্ছেদকৃত স্থান পরিদর্শনের জন্যই সৈকতে যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এ সময় সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল, শাহজাহান চৌধুরী, কক্সবাজার জেলা পরিষদের প্রশাসক এটিএম নুরুল বশর চৌধুরী, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান, পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমানসহ বিএনপির জেলা পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতকে নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের এমন উদ্যোগে সৈকতের অনেক এলাকার চেহারা পাল্টে গেছে। ভাসমান দোকান সরে যাওয়ায় সড়ক থেকে দৃষ্টিগোচর হচ্ছে সৈকতের বালিয়াড়ি, আছড়ে পড়া নীল ঢেউ। ঈদের ছুটিতে তাই পর্যটকেরা সৈকতের নতুন রূপ দেখতে পাচ্ছেন বলে পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

কক্সবাজার প্রেস ক্লাবের সভাপতি মাহবুবর রহমান বলেন, প্রতিবছর কক্সবাজারে ঘুরতে আসেন ৬০-৭০ লাখ পর্যটক। বেশির ভাগ পর্যটক একবারের জন্য হলেও সৈকতে আসেন। পর্যটকেরা সৈকতে নামার সময় বালিয়াড়িতে ঝুপড়ি দোকানের বস্তি দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। সেখানে নানা অপরাধও ঘটে। ঝুপড়ি মুক্ত হওয়ায় এখন সৈকতের চেহারা পাল্টে গেছে। এতে পর্যটকেরা নতুন রূপ দেখতে পাচ্ছেন কক্সবাজারের। পাশাপাশি সমুদ্রের দূষণও কমবে।

সৈকতে কার্ড বাণিজ্য
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রায় তিন দশক আগে ‘বিচ ম্যানেজমেন্ট’ কমিটি গঠন করা হয়। পদাধিকার বলে কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক। সরকার পরিবর্তন হলে কমিটির কিছু সদস্য পরিবর্তন হয়। মূলত ক্ষমতাসীন দলের নেতারা কমিটিতে যুক্ত হন। ৫ আগস্টের পর কমিটি এখনো পুনর্গঠন করা হয়নি।

আওয়ামী লীগের আমলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের নামে পাঁচ শতাধিক ‘কার্ড’ (পরিচয়পত্র) দিয়েছিল বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি। অভিযোগ রয়েছে, কার্ডধারীদের বেশির ভাগ বহিরাগত। স্থানীয় বাসিন্দারা সে কার্ড ভাড়া নিয়ে সৈকতে দোকান খুলে ব্যবসা করেন। প্রতিবছর ১০ হাজার টাকার জমা দিয়ে ওই ‘কার্ড’ নবায়ন করতে হয়। কিন্তু কার্ডধারীরা তা অন্যদের কাছে ভাড়া দেন ৫০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকার বিনিময়ে।

কার্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে ১৪টি শর্ত বেঁধে দিয়েছে বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি। উল্লেখযোগ্য শর্তগুলো হচ্ছে, কার্ড বা পরিচয়পত্র হস্তান্তর করা যাবে না। নির্ধারিত স্থান ছাড়া অন্য কোথাও ব্যবসা পরিচালনা করা যাবে না। পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না। কিন্তু এসব শর্তের বেশির ভাগ দোকানিরা মানেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরিবেশবিষয়ক সংস্থা ইয়ুথ এনভায়রনমেন্ট সোসাইটির (ইয়েস) এর চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মুজিবুল হক বলেন, প্রতিবছর কার্ড বাণিজ্য থেকে পাওয়া যায় অন্তত ১৫ কোটি টাকা। এই টাকা কোথায় ব্যয় হয়, তা কেউ জানে না। বিভিন্ন সময় হিসাব চেয়েও পাওয়া যায়নি।

তবে বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি সূত্র জানায়, সৈকত রক্ষণাবেক্ষণ, আলোকায়নসহ নানা কাজে এই অর্থ ব্যয় হয়।

জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সুগন্ধা পয়েন্টে স্থাপনাসমূহ উচ্ছেদ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে টেকনাফ পর্যন্ত ১২০ কিলোমিটার সৈকতের সব স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে।

কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী খোকা বলেন, সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে একটি চক্র কার্ড বাণিজ্যে নেমেছে। চিহ্নিত দখলবাজ চক্র উচ্ছেদের বিরোধিতা করে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চক্রান্ত চালাচ্ছে। সমুদ্র পরিবেশ রক্ষা করতে হলে কার্ড বাণিজ্য বিলুপ্ত করতে হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © ajkerdorpon.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com