August 17, 2026, 12:57 pm
Title :

কারফিউ-চেকপোস্ট ভেঙে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা

Reporter Name
  • Update Time : Wednesday, July 29, 2026
  • 14 Time View

২০২৪ সালের ২৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পালা হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকল। কেন্দ্রীয় সমন্বয়করা আটক করে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া ও চাপ প্রয়োগ করে বিবৃতি লেখানোকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ বাড়ায় আন্দোলনকারীদের। এরই প্রেক্ষিতে রাত সাড়ে ৯টার দিকে আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক মাহিন সরকার ছোট বার্তার মাধ্যমে নতুন কর্মসূচির আহ্বান জানান—রাষ্ট্রীয় শোক প্রত্যাখ্যান করে ৩০ জুলাই মুখে ও চোখে লাল কাপড় বেঁধে ছবি শেয়ার করার আলোকসজ্জা চালানোর নির্দেশসহ আন্দোলনের নয় দফা দাবি পুনর্ব্যক্ত করা হয়। সরকারি সিদ্ধান্তে দেশব্যাপী কারফিউ, বাড়তি নিরাপত্তা ও বিশেষ প্রার্থনার কর্মসূচি ঘোষণা করা হলেও অনেক আন্দোলনকারী সেটি রাজনীতিকরণ বলে খারিজ করে।

অভিযানকারীরা দ্রুতই সারা দেশে প্রতিক্রিয়া দেখায়; শিক্ষক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সাধারণ মানুষ মুখে-চোখে লাল কাপড় বেঁধে ছবি প্রকাশ করেন এবং কয়েকজন জনপ্রিয় তারকাও সমর্থন জানান। রাজধানীসহ ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট, কুমিল্লা, বরিশাল, বগুড়া, যশোর, ঠাকুরগাঁও ও নোয়াখালী ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ততক্ষণে শহরে কারফিউ চলছিল, নিরাপত্তা জোরদার, সেনা, পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি মোতায়েন ছিল, র‍্যাব হেলিকপ্টার টহল দিত এবং অসংখ্য চেকপোস্ট বসানো ছিল। এসব পেরিয়ে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শিক্ষক জনসাহায্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনের ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ চালিয়েছে; পুলিশের ধাওয়া ও লাঠিচার্জে বেশ কিছু শিক্ষার্থী আটক হয় এবং বিভিন্ন স্থানে অন্তত অর্ধশত শিক্ষার্থী গ্রেফতার করা হয়েছে। রাজশাহীরই সাবেক ছাত্র রাশেদ রাজনকে ছবি-ভিডিও শেয়ার করার অভিযোগে আটক করে বিস্ফোরক মামলায় কোর্টে হস্তান্তর করা হয় ও তার মোবাইল ট্র্যাক করে আন্দোলনকারীদের খোঁজার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।

আন্দোলনকারীদের দাবিগুলো ছিল স্পষ্ট—কেন্দ্রীয় সমন্বয়কদের রিলিজ, গুম ও গ্রেফতার বন্ধ, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, আন্দোলনে প্রাণহানীর সুষ্ঠু বিচার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে পদত্যাগ করানোর অনুরোধ। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ড. মো. সালেহ হাসান নকীব, আরবি বিভাগের ড. ইফতেখারুল আলম মাসউদ, সমাজকর্ম বিভাগের ড. মো. জামিরুল ইসলাম ও ড. মো. সাইফুল ইসলাম; তারা শিক্ষার্থীদের সহায়তা ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নিতে উৎসাহ দিয়েছেন। জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামও গ্রেফতার ও দমন-পীড়নের নিন্দা করে দ্রুত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিয়ে পরিস্থিতি নিরপেক্ষভাবে তদন্তের আহ্বান জানায়। আন্দোলনের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা পরে বলেছিলেন, ভয় ও কঠোর নিরাপত্তা উপেক্ষা করেই ২৯ জুলাই রাজপথে নামা ছিল জরুরি এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এই পদক্ষেপ পুরো আন্দোলনকে নতুন বল যোগ করেছিল।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © ajkerdorpon.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com