September 12, 2026, 10:28 am

ক্যানভাসে জুলাইয়ের স্মৃতি, ডাকসুতে ২৮০ শিল্পকর্ম

Reporter Name
  • Update Time : Saturday, September 12, 2026
  • 5 Time View

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) উদ্যোগে সম্প্রতি ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি ও চেতনাকে ক্যানভাসে ফুটিয়ে তুলতে একটি বর্ণাঢ্য প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। ডাকসু প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এই বিশেষ আয়োজনে ক্যালিগ্রাফি অ্যান্ড আর্ট এবং জুলাই গ্রাফিতি কম্পিটিশন অ্যান্ড এক্সিবিশন ২০২৬ শিরোনামে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। দেশের তরুণ ও উদীয়মান শিল্পীদের অংশগ্রহণে মুখর এই প্রাঙ্গণে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে মোট ২৮০টিরও বেশি চিত্রকর্ম প্রদর্শিত হয়। আয়োজনটির সার্বিক তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব পালন করেন ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সাবিকুন্নাহার তামান্না ও আফসানা আকতার। দিনব্যাপী এই প্রদর্শনীতে সর্বসাধারণের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে।

প্রদর্শনীতে স্থান পাওয়া চিত্রকর্মগুলোতে মূলত জুলাই অভ্যুত্থানের নানা গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত, সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগ এবং ভবিষ্যতের নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশার চিত্র অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়। অংশগ্রহণকারী শিল্পীরা তাদের ক্যালিগ্রাফি, চিত্রকলা ও গ্রাফিতির মাধ্যমে তৎকালীন আন্দোলনের নিখাদ অনুভূতি এবং নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত সফলভাবে তুলে ধরেন। প্রতিযোগিতায় দুটি পৃথক ক্যাটাগরিতে সেরা ১২ জন শিল্পীকে পুরস্কৃত করা হয় এবং প্রতিটি ক্যাটাগরির প্রথম পাঁচজনকে ক্রেস্ট, প্রাইজমানি ও সনদপত্র দেওয়া হয়। এ ছাড়া শিশু শিল্পীদের মধ্য থেকে দুজনকে বিশেষ পুরস্কার প্রদানের পাশাপাশি প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া সব শিল্পীকে সম্মাননা হিসেবে সনদপত্র দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত প্রখ্যাত আলোকচিত্রশিল্পী ও মানবাধিকারকর্মী শহিদুল আলম বলেন যে, জুলাইয়ের মতো একটি তাৎপর্যপূর্ণ সময়কে শিল্পের মাধ্যমে নথিবদ্ধ করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় কাজ। তিনি উল্লেখ করেন যে, একটি শক্তিশালী ছবি অনেক সময় দীর্ঘ বর্ণনার চেয়েও বেশি নিখুঁতভাবে সময়ের বাস্তবতাকে ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম হয়। অনুষ্ঠানে ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম তার বক্তব্যে বলেন যে, শিল্প মানুষের মনের গভীরের কথা প্রকাশের অন্যতম প্রধান মাধ্যম এবং তরুণদের এই সৃষ্টিশীলতা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে কাজ করবে। অন্যদিকে ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ জানান যে, তরুণরা নিজেদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার আলোকে জুলাইয়ের দিনগুলোকে ক্যানভাসে ধারণ করেছেন, যা এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সামনে উন্মুক্ত করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে চলচ্চিত্র নির্মাতা মাবরুর রশিদ বান্নাহ মন্তব্য করেন যে, কোনো নির্দিষ্ট সময়কে সঠিকভাবে উপলব্ধি করার জন্য কেবল লিখিত ইতিহাস যথেষ্ট নয়, বরং মানুষের অনুভূতি ও দৃশ্যপট সংরক্ষণ করাও সমানভাবে জরুরি। এছাড়া সংসদ সদস্য ড. মো. শফিকুল ইসলাম মাসুদ তার বক্তব্যে বলেন যে, জুলাইয়ের চেতনাকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে কেবল অতীতের স্মৃতিচারণ করলেই চলবে না, বরং তরুণদের সুন্দর ও বৈষম্যহীন ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্নকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। ডাকসুর স্বাস্থ্য ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মিনহাজের সঞ্চালনায় এই আয়োজনে আরও উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর বিভিন্ন সম্পাদক, হল সংসদের নেতৃবৃন্দ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। সার্বিকভাবে এই শিল্প প্রদর্শনীটি ঐতিহাসিক জুলাই অভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে সৃজনশীলতার মাধ্যমে ইতিহাস চর্চায় উদ্বুদ্ধ করেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © ajkerdorpon.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com