সম্প্রতি প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদপত্রের প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। এর মধ্যে প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে অতীতে সম্পাদিত বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকগুলো গভীরভাবে খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান প্রশাসন। সরকারি দলের উচ্চপর্যায়ের দায়িত্বশীল একজন নেতার বক্তব্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে হওয়া শতাধিক চুক্তি নতুন করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। দেশের স্বার্থ ও জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এই চুক্তিগুলোর বর্তমান কার্যকারিতা ও প্রাসঙ্গিকতা মূল্যায়ন করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
প্রশাসনের নীতিনির্ধারণী মহলের এই পদক্ষেপে দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব কী হতে পারে, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে নানা আলোচনা চলছে। সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, কোনো চুক্তিই দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে নয় এবং পারস্পরিক সমতা ও সম্মানের ভিত্তিতেই ভবিষ্যতে যেকোনো প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক বজায় রাখা হবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও দায়িত্বশীল কর্তাব্যক্তিরা এই পর্যালোচনার প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছতার সঙ্গেই সম্পন্ন করার ওপর জোর দিচ্ছেন, যাতে জনমনে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি বা সংশয়ের অবকাশ না থাকে।
এদিকে দেশের প্রশাসনিক কাঠামো ও চাকরি বাজারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র বিসিএস পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে জনমনে নতুন করে নানান বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক প্রকাশিত একাধিক বিসিএস পরীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা গেছে যে, অন্য অঞ্চলের তুলনায় ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং ময়মনসিংহ এই তিনটি প্রধান অঞ্চলের পরীক্ষার্থীরা তুলনামূলকভাবে বেশি সাফল্য অর্জন করছেন। এই আঞ্চলিক ব্যবধান বা সাফল্যের পেছনে শিক্ষা ব্যবস্থার সুযোগ-সুবিধা এবং প্রস্তুতি গ্রহণের কাঠামোগত পার্থক্য কতটা প্রভাব ফেলছে, তা নিয়ে শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও সচেতন মহলে নানা ধরনের মতামত ও গবেষণা চলছে।
অন্যদিকে জনস্বাস্থ্য ও কৃষি খাতের সমসাময়িক কিছু সংকটময় পরিস্থিতিও সংবাদমাধ্যমে জোরালোভাবে উঠে এসেছে। কৃষি মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর তরফ থেকে দেশজুড়ে রাসায়নিক সারের পর্যাপ্ত মজুদ থাকার দাবি করা হলেও, প্রান্তিক কৃষকদের অভিজ্ঞতা এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা বলছে। অনেক এলাকায় কৃষকরা সময়মতো প্রয়োজনীয় সার সংগ্রহ করতে গিয়ে নানা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন, যা আসন্ন ফসল উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলার আশঙ্কা তৈরি করেছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রাক্কলন অনুযায়ী, আগামী দিনগুলোতে দেশের অন্তত পনেরোটি জেলায় ডেঙ্গু রোগের প্রকোপ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেতে পারে, যা ইতিমধ্যেই স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগগুলোকে বাড়তি সতর্কতার বার্তা দিচ্ছে।