কুমিল্লার সীমান্তবর্তী গোমতী নদীর বেড়িবাঁধ সড়কে গতকালগুলোতে লাগানো সোলার লাইট একে একে নিখোঁজ হয়ে যাওয়ায় রাতেই অন্ধকার নেমে আসে। রাতে পথে নামা লোকজন কমে যাওয়ায় ওই সড়কটি চোরাচালান, ছিনতাই এবং মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রন্থি হিসেবে পরিণত হয়েছে—স্থানীয়রা বলছেন পাঁচথুবী ও আশপাশের ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
২০২৩ সালে কুমিল্লা সদর উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে প্রায় পাঁচশোটি সোলার লাইট বসানো হয়েছিল যাতে গোমতীর উত্তর পাড়—পাঁচথুবী ও আমড়াতলী ইউনিয়নের মানুষের রাতের যাতায়াত নিরাপদ হয়। কিন্তু এখন আনুমানিক আট শতাংশ নয়, বরং প্রায় ৮০ শতাংশ লাইট বা খুঁটিই নেই বা নষ্ট; কোথাও খুঁটিও কাটা দেখা গেছে। স্থানীয়রা জানান, টিক্কারচর ব্রিজ, গোলাবাড়ি, জালুয়া পাড়া ইত্যাদি স্থানে সন্ধ্যার পর ছিনতাই এবং মাদকসেবীর উপস্থিতি বেড়ে গেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ব্যবসায়ীরা বলেন টিক্কারচর এলাকায় রাত ৯টার পরে ছিনতাইকারীরা এসে টাকা-মোবাইল ছিনিয়ে নেয়, কেউ বোঝানোর চেষ্টা করলে মারধর করা হয়। পাঁথুবি গ্রামের আমির হোসেন বলেন রাত ৮টার পর থেকে সিএনজি অটোরিকশায় সীমান্ত এলাকা থেকে মাদক ও বিভিন্ন পণ্য পরিবহন করে দেওয়া হয়।
প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়াও মেলে—পাঁচথুবী ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কাজী তানভীর আহমেদ রাহুল বলেন চোরাকারবারিরা সুবিধার জন্য পরিকল্পিতভাবে লাইট নষ্ট ও চুরি করছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আরও সক্রিয় নজরদারি প্রয়োজন। কুমিল্লা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা তুজ জোহরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাশিয়াত আকতারের নেতৃত্বে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন; রিপোর্ট এলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে। কোটিয়ালি মডেল থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার বলেন সদরে রাতের ১১টি টিম কাজ করে, এর মধ্যে দুইটি পাঁথুবিতে সময় দেয়, তবে এখন পর্যন্ত অফিসে চুরি-ছিনতাই নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ নেই। কুমিল্লা-১০ বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মীর আলী এজাজ বলেন বেড়িবাধ রুট দিয়ে মাদক ও ভারতীয় পণ্য আনা‑নেওয়ার তথ্য তাদের আছে এবং তথ্য পেলেই অভিযান চালায়। কুমিল্লা জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে বারবার ফোন ও মেসেজ করা হলেও তাদের মন্তব্য পাওয়া যায়নি।