সচিবালয়ে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ার ঘটনাকে সরকার জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ স্থান দিয়ে দেখছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, বাজারে বিক্রি হওয়া ২৬টি টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক হলেও কেবল ওই পণ্যের ওপর ব্যবস্থা নিয়ে সমস্যা মিটবে না, কারণ খাবার ও পানিসহ নানা উৎস থেকেই মাইক্রোপ্লাস্টিক মানুষের শরীরে ঢুকছে; তাই সমন্বিত পরিকল্পনা ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর উদ্যোগ দরকার।
তিনি আরও বলেছেন, জনগণের স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়ছে এবং সামাজিক মাধ্যমে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে, সেক্ষেত্রে গণমানুষের স্বার্থেই সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। সম্প্রতি এক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ঘটনায় একজন প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রসঙ্গে জানানো হয় যে, অভিযোগকারীর পক্ষ থেকে থানায় এজাহার করা হয়েছে; এখন তদন্ত হচ্ছে এবং তদন্তভিত্তিকভাবে চার্জশিট বা চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা পড়বে, তার পরেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ডা. জাহেদ অপ্রমাণিত অভিযোগ না করার সতর্কতাও দিয়েছেন — এতে অভিযুক্ত ব্যক্তির সামাজিক মর্যাদা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং যে কোনো নাগরিকের ক্ষেত্রেই অভিযোগের পক্ষে নথি বা প্রমাণ থাকা জরুরি। তিনি সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ২৫ বছর পূর্ণ হলে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই চাকরির আবাদ দিতে পারা বৈধ বিধান বলেও জানিয়েছেন।
দেশীয় নির্বাচন সম্পর্কেও তিনি মন্তব্য করেন যে, ২০১৮ সালের নির্বাচন ইতিহাসে অন্যতম বড় অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে এবং সেই সঙ্গে ২০১৪ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনের তথ্যও প্রয়োজন হলে তদন্তের দাবি রাখে। তদন্ত চললে যে পর্যায়ে যে কর্মকর্তা জড়িত থাকবেন, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে এবং প্রয়োজনে ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব। সম্প্রতি ৭.৬২ মিলিমিটার গুলির প্রশ্নেও তিনি বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, পুলিশের কাছে থাকা চীনা টাইপ-৫৬ রাইফেলগুলোই ৭.৬২ মিলিমিটার গুলি ব্যবহার করে—এসব অস্ত্র আগে সেনাবাহিনী, পরে বিজিবি ও সর্বশেষ পুলিশের তালিকায় গিয়েছে; এগুলোর কার্যকর পাল্লা প্রায় ৪০০–৫০০ মিটার। তিনি বলেন, সঠিক তদন্ত হলে ঘটনাগুলোর প্রকৃত তথ্যই সামনে আসবে।