যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি ফালিহ কাজিম আল-জায়েদি বুধবারের পর সফরসঙ্গী প্রতিনিধিদল নিয়ে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) তেহরানে পৌঁছান। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদসংস্থা ইরনা জানিয়েছে, এ সফরে তেহরান ও বাগদাদের মাঝে সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতা কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং আল-জায়েদিকে বাঘের ঘালিবাফ ও প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন।
পেজেশকিয়ান দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক জোরদারের জন্য দ্রুত একটি সমন্বিত সহযোগিতা কর্মসূচি প্রণয়নের ওপর জোর দেন। তিনি সাংস্কৃতিক বন্ধন, বিশেষত আরবাইন তীর্থযাত্রা ও শহিদদের প্রতি ইরাকিদের শ্রদ্ধা দুই দেশের ভ্রাতৃত্বের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, নিরাপত্তা বিষয়ে ইরান ও ইরাক পরস্পরভাবে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ইউরোপীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা মডেলের মতো একটি সমন্বিত রেল ও সড়ক নেটওয়ার্ক হলে ট্রানজিট, বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বাড়বে—এমনটাই তার মন্তব্য। একই সঙ্গে তিনি অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত চুক্তিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন এবং সীমান্ত নিরাপত্তা চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন।
আল-জায়েদি তেহরানের প্রতি বাগদাদের কৌশলগত অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ইরাকের ভূখণ্ড কখনোই ইরানের বিরুদ্ধে হুমকি সৃষ্টি করার ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার হবে না এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইরানের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, বাণিজ্য, স্বাস্থ্যসেবা ও উচ্চশিক্ষাসহ বিভিন্ন খাতে চুক্তি চূড়ান্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক মন্ত্রীসহ একটি দল তার সঙ্গে তেহরানে রয়েছেন, যাতে দ্বিপক্ষীয় সদিচ্ছাকে বাস্তব ফলাফলে রূপ দেওয়া যায়। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কোম্পানি ইরাকের সঙ্গে প্রায় ৬০০০ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের ৪৮টি চুক্তি ও অংশীদারিত্বে সই করেছে; এসব চুক্তির মধ্যে পারস্য উপসাগরের বিকল্প পথে তেল রপ্তানির অবকাঠামো গঠনের পরিকল্পনাও রয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে ২০২৮ সালের মধ্যে হরমুজ সাগরপ্রণালীর ওপর নির্ভরতাও কমতে পারে।