ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়ক (এন-৭) ছয় লেন করার কাজ মারাত্মকভাবে বিলম্বে আছে; ছয় বছরেও প্রকল্পের বাস্তব কাজ এগিয়েছে মাত্র দুই শতাংশ। জমি অধিগ্রহণ অর্ধেকের কাছাকাছি থাকলেও দীর্ঘকাল রাস্তা খুঁড়ে রাখা ও আধপাকা অবস্থার কারণে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে, ফলে এলাকাবাসীর চলাচলে বড় ধরনের ঝুঁকি ও ভোগান্তি বাড়েছে। স্থানীয়রা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি এবং প্রতিনিধিদের উদাসীনতাকে দায়ী করছেন।
প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণে কালীগঞ্জের অংশে প্রায় ৪৫ শতাংশ ও ঝিনাইদহ সদর এলাকায় প্রায় ৫০ শতাংশ কাজ হয়েছে; মোট ছয়টি সরকারি বিভাগের সংশ্লিষ্ট দপ্তর জরিপ ও পরিদর্শন রিপোর্ট তৈরিতে সময় নেওয়ায় শুরুতেই দেরি হয়েছিল বলে বলা হচ্ছে। ২০২০ সালে চার হাজার ১৮৭ কোটি টাকায় অনুমোদিত এই প্রকল্পের বাজেট পরে বেড়ে হয়েছে ছয় হাজার ৬২৬ কোটি টাকা। বাস্তবগত অগ্রগতি না থাকায় অর্থায়নকারী বিশ্বব্যাংকের উইকেয়ার প্রকল্প কর্তৃপক্ষও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে; ডিভিশন ডাইরেক্টর জোঁ পেম ও অপারেশন ম্যানেজার গেইল মার্টিন ১৯ জুলাই এলাকা পরিদর্শন করে তাদের অসন্তোষ জানান এবং প্রকল্প মেয়াদের বর্ধিতকরণ ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথাটি সময়োপযোগীভাবে পর্যালোচনা হবে বলে উল্লেখ করেছেন।
জমি অধিগ্রহণ তিন সপ্তাহের মধ্যে ৬০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে বলে ঝিনাইদহের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সুবীর কুমার দাশ জানিয়েছেন, আর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী নিলন আলী বলছেন মার্চ ও জুলাইয়েই কিছু জমি বুঝে নেওয়ায় কাজের গতি বাড়বে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আব্দুল মোনায়েম লিমিটেড ও লট-১-এর দায়ে থাকা ম্যাক্স ফার্মের স্থানীয় প্রতিনিধিদের উদাসীনতার অভিযোগ তুলে পরিবহন মালিক ওসমান গণি ও অন্যান্য সংশ্লিষ্টরা দ্রুত কাজ চালানোর দাবি জানিয়েছেন। লট-২ ও ৩-এর ব্যবস্থাপক তুহিন আল মামুন জানিয়েছেন, এই বছরের ডিসেম্বরে কাজ শেষ করা বাস্তবে সম্ভব নয়।