আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে চলমান এক মামলায় সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন ডা. আশিক উল আকবর। তিনি অভিযোগ করেন, ২০১৬ সালে র্যাবের টিএফআই সেলে তাকে দীর্ঘ দুই মাস আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছিল। জবানবন্দিতে তিনি জানান, টঙ্গীর বাসা থেকে তুলে নেওয়ার পর তাকে চোখ বেঁধে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে তাকে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করার জন্য বাধ্য করা হয়।
ডা. আশিক বর্ণনা করেন যে, নির্যাতনের সময় তাকে হুক দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হতো। তার শরীরের ওজন বেশি হওয়ায় অসহ্য যন্ত্রণায় চামড়া ছিঁড়ে যাওয়ার উপক্রম হলে নির্যাতনের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের একজন মন্তব্য করেছিলেন, ‘স্যার, ও অনেক মোটা, মরে যাবে’। এই অমানবিক অত্যাচারের মুখে তিনি প্রাণ বাঁচাতে মিথ্যা স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য হন। এমনকি তাকে দিয়ে জোরপূর্বক সাদা কাগজে লিখিত জবানবন্দি এবং ভিডিও বক্তব্য নেওয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
দীর্ঘ দুই মাস গুম থাকার পর তাকে র্যাব-১-এর মিডিয়া সেন্টারে নিয়ে অস্ত্রের সঙ্গে ছবি তোলা হয়, যা পরবর্তীতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। তিনি আরও জানান, টঙ্গী থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার সময় ওসি প্রথমে মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। পরবর্তীতে উচ্চ আদালতের নির্দেশে দীর্ঘ ১৩ মাস পর তিনি মুক্তি পান। ডা. আশিক এই পুরো প্রক্রিয়ার জন্য তৎকালীন সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কঠোর বিচার দাবি করেছেন।