দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও সংঘাতের সৃষ্টি হয়েছে। গত তিন দিনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্তত পাঁচটি ক্যাম্পাসে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে উভয় পক্ষ ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে ক্যাম্পাসে নিজেদের একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার এই প্রতিযোগিতার ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে।
উভয় ছাত্রসংগঠনের পক্ষ থেকেই একে অপরের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক আচরণের অভিযোগ তোলা হয়েছে। ছাত্রশিবিরের অভিযোগ, ছাত্রদল অকারণে তাদের ওপর হামলা চালিয়ে ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত করার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে, ছাত্রদলের দাবি, ছাত্রশিবির ক্যাম্পাসে নিয়মবহির্ভূতভাবে আস্ফালন করছে এবং রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে, যা সহ্য করা সম্ভব নয়। এই পাল্টাপাল্টি দোষারোপ এবং রাজনৈতিক ট্যাগিং পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
শিক্ষাবিদ ও বিশ্লেষকদের মতে, পেশীশক্তির প্রদর্শনী সাধারণ শিক্ষার্থীরা কখনোই মেনে নেয়নি। শিক্ষাঙ্গনের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে উভয় সংগঠনকেই গণতান্ত্রিক রীতিনীতি মেনে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও বিষয়টি নিয়ে কঠোর বার্তা দিয়েছে এবং ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের সহিংসতা বরদাশত করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে। দ্রুত এই অস্থিরতা নিরসন না হলে তা সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।