দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব করতে প্রথমবারের মতো বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই বিশেষ ট্রেনটি দেশের অন্যতম ব্যস্ত ও জনবহুল নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর রুটে চলাচল করবে। মোট বাহান্ন কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেলপথকে বৈদ্যুতিক ট্রাফিক ব্যবস্থার আওতায় আনতে প্রায় তিন হাজার আটশ কোটি টাকার বেশি ব্যয়বরাদ্দ ধরা হয়েছে। এর একটি বড় অংশ সরকারি তহবিল থেকে জোগান দেওয়া হলেও বাকি অর্থায়ন আসছে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর মাধ্যমে। বাংলাদেশ রেলওয়ের তত্ত্বাবধানে এই মেগা প্রকল্পটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পটির সাথে জড়িত নীতিনির্ধারক ও রেলওয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার ক্রমবর্ধমান যানজট কমাতে এই বৈদ্যুতিক রেল যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। প্রতিদিন এই অঞ্চলগুলোতে লাখ লাখ মানুষ যাতায়াত করেন, অথচ বিদ্যমান সড়ক ও রেলপথ তাদের চাহিদার তুলনায় অনেকটাই অপর্যাপ্ত। বৈদ্যুতিক ট্রেন চালু হলে একদিকে যেমন যাত্রীদের যাতায়াত সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে, অন্যদিকে সড়কপথের ওপর অতিরিক্ত যানবাহনের চাপও বহুলাংশে হ্রাস পাবে। এছাড়া পুরো প্রক্রিয়াটি বাস্তবায়িত হলে রেলওয়ের অপারেশনাল দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি রাজস্ব আয়ও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
বর্তমানে রেলওয়েতে প্রচলিত ডিজেলচালিত ব্যবস্থার তুলনায় বৈদ্যুতিক ট্র্যাকশন পদ্ধতি অনেক বেশি সাশ্রয়ী ও টেকসই। রেল সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন ব্যবস্থায় জ্বালানি খরচ ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় প্রায় অর্ধেক কমে যাবে এবং ট্রেনের গড় গতিবেগও বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি, এটি একটি সবুজ পরিবহন ব্যবস্থা হিসেবে কার্বন নিঃসরণ কমাতে সরাসরি সাহায্য করবে। ঘনবসতিপূর্ণ ও শিল্পসমৃদ্ধ এই এলাকায় বায়ুদূষণের মাত্রা কমাতে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় এই উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী পদক্ষেপ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত এই প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য শিগগিরই জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। প্রকল্পের প্রাথমিক প্রস্তুতি ও নীতিগত অনুমোদন ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক অর্থলগ্নীকারী সংস্থাসমূহও এতে অর্থায়নে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যেই এই রুটে আধুনিক বৈদ্যুতিক মাল্টিপল ইউনিট বা ইএমইউ ট্রেন চলাচল শুরু হবে, যা দেশের সার্বিক গণপরিবহন খাতে এক নতুন যুগের সূচনা করবে।