চলতি বছরের পয়লা এপ্রিল আমার মাথার ওপর থেকে বাবার স্নেহের ছায়াটি চিরতরে সরে গেছে। বাবা আজ নেই, কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া প্রতিটি কথা আজও আমার অস্তিত্ব জুড়ে প্রতিধ্বনিত হয়। আজকের এই লেখাটি মূলত বাবার বলে যাওয়া একটি বিশেষ আকুলতার ওপর ভিত্তি করে।
আজ থেকে প্রায় ১৫ বছর আগে যখন প্রথম আমেরিকান এসেছিলাম নিউজিল্যান্ড থেকে সপরিবারে, আমার সন্তানরা ঘরে পরস্পরের সঙ্গে ইংরেজি কথা বলতো। বাবা (বাংলাদেশ সরকারের অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী ছিলেন) তখন আমাকে বলেছিলেন— “দেশ ছেড়ে সুদূর আমেরিকায় এসেছিস একটা ভালো জীবনের আশায়। কিন্তু বাবা, পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকিস না কেন, তোর সন্তানদের যেন বাংলা আর আরবি শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করিস না। বাংলা হচ্ছে আমাদের অস্তিত্বের শিকড়, আর আরবি হলো আমাদের দীন ও কোরআন-হাদিসের শিক্ষা।
আমি চেষ্টা করে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার জন্য কথার পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে পারেনি।
—আজ কেন যেন মনে হচ্ছে এটা আমার একার ঘরের হাহাকার নয়, বরং তা যেন আজ প্রবাসে আমাদের অগণিত বাংলাদেশী পরিবারের এক নীরব সংকটেরই প্রতিচ্ছবি।
__ আমাদের চারপাশে মারাত্মক মহামারি হচ্ছে অধিকাংশ পরিবারগুলোর ভেতরের দেয়ালটা সবচেয়ে বেশি যন্ত্রণাদায়ক। প্রথম প্রজন্মের অভিবাসী মা-বাবারা যখন ইংরেজিতে কথা বলতে গিয়ে আটকে যান বা ফোনে ভাঙা ভাঙা ইংরেজিতে উত্তর দেন, তখন ঘরের সন্তানেরা মনে করে তাদের মা-বাবা ‘নিরক্ষর’ বা ব্যাকডেটেড।
আমেরিকার সমাজব্যবস্থায় শিশুরা মা-বাবার কথার চেয়ে তাদের বন্ধু-বান্ধব ও স্কুল কালচারকে বেশি গুরুত্ব দেয়। ঘরে মা-বাবার সাথে এই যে ভাষাগত এবং সাংস্কৃতিক দূরত্ব (Generation Gap), তা তাদের করে তোলে একা। মা-বাবার সহজ সরল উপদেশগুলোও তখন সন্তানদের কাছে ‘খিটখিটে মেজাজ’ বা ‘অহেতুক শাসন’ বলে মনে হয়।
বাংলাদেশি কমিউনিটিতে কৃষ্টি-কালচার রক্ষা ও উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে সামাজিক সংগঠন গড়ে উঠলেও, বাস্তবিক অর্থে এগুলোর মাধ্যমে প্রকৃত উন্নয়ন কতটুকু হচ্ছে তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।”
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি, মিশিগান কিংবা বাফেলো—যেখানেই চোখ যায়, দেখা যায় বাংলাদেশিদের এক বিশাল ও প্রাণবন্ত উপস্থিতি। বিশেষ করে নিউইয়র্ক সিটিকে বলা যায় প্রবাসে ‘মিনি বাংলাদেশ’। সরকারি আদমশুমারির অফিশিয়াল হিসাব অনুযায়ী নিউইয়র্ক সিটিতে নিবন্ধিত বাংলাদেশীর সংখ্যা প্রায় ১,০০,৫১৭ জন। তবে কমিউনিটি বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক ক্ষেত্রে সঠিক নিবন্ধন না হওয়া বা বাদ পড়ার কারণে প্রকৃত জনসংখ্যা ১,২৫,০০০ বা তারও বেশি হতে পারে।
__নিউইয়র্কে ছোট-বড় মিলিয়ে কয়েকশো নিবন্ধিত বাংলাদেশী সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী, আঞ্চলিক এবং ধর্মীয় সংগঠন রয়েছে।
যার মধ্যে বাংলাদেশ সোসাইটি ইন্ (Bangladesh Society Inc.) ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠনটিকে আমেরিকার বাংলাদেশী কমিউনিটির অভিভাবক সংগঠন বলা চলে। সাম্প্রতিক ২০২৬ সালের নতুন নিবন্ধিত ভোটের তালিকায় ভোটারের সংখ্যা ৩৫,৩২১ জন।
___দ্বিতীয় বিহত্তর আঞ্চলিক সংগঠন জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইন্ (Jalalabad Association of America, Inc.)। সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলা অর্থাৎ সিলেট বিভাগ সমন্বয়ে গঠিত। নিউইয়র্ক স্টেটের ডিপার্টমেন্ট অব স্টেটের (NYS Department of State) অফিশিয়াল রেকর্ড অনুযায়ী, সংগঠনটি ১৯৮৮ সালের ২৪ মে একটি অলাভজনক (non-profitable) সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত হয়। তাছাড়া রয়েছে সন্দ্বীপ অ্যাসোসিয়েশন, মুন্সীগঞ্জ- বিক্রমপুর সমিতি, প্রতিটি জেলা এবং থানা কেন্দ্রিক সামাজিক সংগঠন। আঞ্চলিক সংগঠনের পাশাপাশি রয়েছে ধর্মীয়, সংস্কৃতিক ক্রীড়া, সংগঠন। দেশের প্রায় প্রতিটি জেলা ও থানা কেন্দ্রিকএবং মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোর তৎপরতা নিয়ে ও বিতর্ক রয়েছে।
আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে ধর্মীয় কৃষ্টি কালচার নিয়ে কাজ করছে ‘মুসলিম উম্মা অফ নর্থ আমেরিকা—যা সংক্ষেপে MUNA (মুনা) নামে সর্বাধিক পরিচিত—১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। MUNA হচ্ছে ধর্মীয় সংগঠনগুলোর মধ্যে বৃহত্তম সংগঠন।
বর্তমানে নিউইয়র্ক সিটির ছোট-বড় মিলিয়ে আনুমানিক ২৭৫ থেকে ৩০০টিরও বেশি মসজিদ এবং ইসলামিক প্রাতিষ্ঠান রয়েছে।
তাছাড়া ম্যানহাটনের নবনির্মিত “দ্য ইসলামিক সেন্টার অব নিউ ইয়র্ক সিটি” (The Islamic Center of New York City – (ICNYC) অথবা ব্রুকলিনের “নিউ ইয়র্ক মুসলিম সেন্টার” (NYC Muslim Center)- জামাইকা মুসলিম সেন্টার, এবং ইকনা মত অনেক ইসলামিক সংগঠন।
আমাদের সন্তানদের ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ শেখানোর সবচেয়ে বড় ভরসাস্থল হওয়ার কথা ছিল স্থানীয় মসজিদগুলো কিংবা মুসলিম পরিবারগুলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মদেরকে সঠিক পথ প্রদর্শনের লক্ষ্যে গড়ে ওঠা এইসব ইসলামিক অরগানাইজেশন গুলার মাধ্যমে। কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পন্ন ভিন্ন। সব জায়গাগুলো যেন এক কমার্শিয়াল ফ্রেন্ডসাইজ ইসলামিক বিজনেস মত মনে হচ্ছে।
বাস্তব সত্য হচ্ছে আমাদের সন্তানদের এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মাঝে দেশীয় কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় মূল্যবোধ ছড়িয়ে দিতে আমরা নানাবিধ সামাজিক সংগঠন গড়ে তুলেছি ঠিকই; কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক ও সুশৃঙ্খল উপায়ে এই ঐতিহ্য ধরে রাখার ক্ষেত্রে এখনো কোনো কার্যকর বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন রয়েছে। বেশিরভাগই বাচ্চারা বাংলায় কথা বলতে পারেনা কিংবা জানলে পরস্পরের সাথে কথা বলতে চায় না। এটা সত্যি আমাদের জন্য ভাবনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই চাকচিক্যময় উৎসবমুখরতার আড়ালে আমাদের পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে এক নীরব ও গভীর সংকট দানা বাঁধছে।
প্রশ্ন থেকে যায় আমরা কি সত্যিই আমাদের সন্তানদের সঠিক পথে পরিচালনা করতে পারছি, নাকি এক গভীর শূন্যতার দিকে ঠেলে দিচ্ছি__?
আমেরিকায় আমাদের কয়েক শত সামাজিক সংগঠন রয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য, এদের অধিকাংশেরই কর্মকাণ্ড বছরের নির্দিষ্ট কয়েকটি আয়োজনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ: বাৎসরিক পিকনিক বা বনভোজ। রয়েছে রমজানে ইফতার মাহফিলের আয়োজন ও জাতীয় দিবসগুলোতে গৎবাঁধা কিছু আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং কমিটির মেয়াদ শেষ হলে নতুন কমিটি গঠন নিয়ে জমজমাট স্বার্থপরতা। এর বাইরে এই সংগঠনগুলোর নেতৃত্ব সমাজ সংস্কার বা আমাদের নতুন প্রজন্মের মনস্তাত্ত্বিক সংকটের দিকে কোনো কার্যকর তৎপরতা দৃশ্যমান হচ্ছে না।
আর একটা মহামারি হচ্ছে আমাদের আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বাচ্চাদের দ্বীন শিক্ষার মসজিদের প্রাতিষ্ঠান গুলোর কার্যক্রম মূলত *তহবিল সংগ্রহ (Fundraising)* কেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে।
পবিত্র রমজান মাস জুড়ে ইবাদতের চাইতে ফান্ড কালেকশন চর্চা অদিততর হচ্ছে। যাকাত, ফিতরা, বিশেষ আয়োজন সিরাত মাহফিল ও ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপনের মতো বিশেষ ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলোকে কেন্দ্র করে বড় অঙ্কের বিশেষ কালেকশন করে ব্যাংকে জমা রাখা হচ্ছে অথবা কমিটির মাধ্যমে ব্যবসায় ব্যবহার করা হচ্ছে।
বর্তমানে অধিকাংশ মসজিদের এসব তৎপরতা কেবল *নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের* মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। ফলে, মসজিদের নিজস্ব তহবিলে পর্যাপ্ত অর্থ জমা থাকলেও, আসেপাশের অন্য কোনো অভাবী মসজিদ, মাদ্রাসা বা সামাজিক সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে নিজেদের জমাকৃত অর্থের দ্বারা সহযোগিতার ইতিহাস খুবই দুর্লভ।
যদিও নিউইয়র্ক সিটিতে সিমিত কিছু ইসলামিক স্কুল রয়েছে কিন্তু সেগুলো অত্যন্ত ব্যয়বহুল। সাধারণ পরিবারের পক্ষে সন্তানদের সেখানে পড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। আর সপ্তাহে দুই দিন অর্থাৎ শনিবার রবিবার সীমিত সময়ের যে কোরআন শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে তা আমেরিকার এই জটিল ও দ্রুত পরিবর্তনশীল সমাজে একজন কিশোর বা তরুণকে নৈতিকভাবে টিকিয়ে রাখার জন্য এই ‘সীমিত জ্ঞান’ মোটেও পর্যাপ্ত নয়। শিশুরা যখন স্কুল-কলেজের মিশ্র সংস্কৃতির ও বৈচিত্র্যময় পরিবেশ থেকে এসে মসজিদে আধুনিক জীবনের প্রশ্নগুলোর কোনো যৌক্তিক বা মনস্তাত্ত্বিক উত্তর পায় না, তখন তারা ধীরে ধীরে ধর্মীয় অনুশাসন থেকে দূরে সরে যেতে থাকে। এমনকি অনেক পরিবার থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে যে স্কুল পড়ুয়া ছাত্ররা জুম্মার নামাজে যেতে অপারগতা পোষণ করে।
তাহলে সমাধান কোথায়?
আমাদের বিশাল এই সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক ও অর্থনৈতিক সামর্থ্যকে যদি আমরা সঠিকভাবে কাজে লাগাতাম, তবে এই শূন্যতা দূর করা অসম্ভব ছিল না। আমাদের গড়ে ওঠার সামাজিক সংগঠন ও মসজিদগুলো চাইলে বাস্তবমুখী কিছু উদ্যোগ নিতে পারত__
এক্ষেত্রে আমাদের প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে নতুন প্রজন্মের সঠিক বিকাশ, তাদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং সামাজিক অবক্ষয় রোধে এখনই কিছু কার্যকর ও বাস্তবমুখী উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। যেমন__
প্রথমত: আফটার-স্কুল প্রোগ্রাম ও মেন্টরিং (সরকারি সুযোগের সঠিক ব্যবহার)
আমাদের প্রতিটি বরো (Borough) বা এলাকায় নিজস্ব উদ্যোগে অথবা সরকারি সহায়তায় আফটার-স্কুল মেন্টরিং প্রোগ্রাম চালু করা উচিত। যেখানে আমেরিকান ও বাংলাদেশি উভয় সংস্কৃতিতে অভ্যস্ত তরুণ মেন্টররা আমাদের সন্তানদের একাডেমিক সাহায্যের পাশাপাশি নৈতিক দিকনির্দেশনা দেবে।
এখানে আমাদের একটি বড় অবহেলা রয়েছে: নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব এডুকেশন (NYC DOE)-এর নিয়মানুযায়ী, কোনো স্কুলে যদি একটি নির্দিষ্ট কমিউনিটির (যেমন বাংলাভাষী) ১৫ থেকে ২০ জন শিক্ষার্থী থাকে, তবে অভিভাবকদের আবেদনের ভিত্তিতে স্কুল কর্তৃপক্ষ সেখানে দ্বিভাষিক (Bilingual) শিক্ষার সুযোগ দিতে বাধ্য। সরকারি এই অধিকার ও বাজেট সম্পর্কে আমরা সচেতন নই বলেই আমাদের শিশুরা এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
দ্বিতীয়তঃ ধর্মীয় শিক্ষার আধুনিকীকরণ ও মসজিদের ভূমিকা__
মসজিদগুলোতে শুধু ঐতিহ্যগত পদ্ধতিতে কায়দা-আমপারা মুখস্থ করানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা যাবে না। বর্তমান যুগের সাথে তাল মিলিয়ে ইংরেজি ভাষায় ইসলামের বাস্তবসম্মত ও আধুনিক জীবনমুখী শিক্ষা দিতে হবে। তরুণরা যেন তাদের মনের দ্বিধা, সংশয় ও মানসিক চাপ নিয়ে মেন্টর বা ইমামদের সাথে খোলামেলা আলোচনা (Safe Space) করতে পারে, সেই পরিবেশ তৈরি করা জরুরি।
নিউইয়র্কের ইসলামিক স্কুলগুলোর অতিরিক্ত খরচের কারণে সাধারণ মানুষ সন্তানদের সেখানে পাঠাতে পারছে না।
শহরের মসজিদ কমিটিগুলোর কাছে বিপুল পরিমাণ অর্থ তহবিল অলস পড়ে রয়েছে।
সিটির মসজিদ গুলোর সমন্বয়ে একটি চ্যারিটি করে যদি সমন্বিত ফান্ডের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সুদমুক্ত ঋণ বা আর্থিক সহায়তা দিত, তবে প্রতিটি মুসলিম পরিবারের ধর্মীয় শিক্ষার স্বপ্ন পূরণ হতো।
__তাছাড়া, আমাদের সমাজে যেসব লাভজনক বা অলাভজনক ইসলামিক অর্গানাইজেশনগুলো রয়েছে, যেমন মুনা, ইসলামিক সোসাইটি, সিএমসি, তারাও চাইলে যৌথ উদ্যোগে একটি বিশেষ স্টুডেন্ট ফান্ড গঠন করতে পারত। সেই ফান্ডের মাধ্যমে মাদ্রাসা কিংবা ইসলামিক স্কুলের শিক্ষার্থীদের কর্জে হাসানা দিয়ে শিক্ষার পথ সুগম করা যেত।
তৃতীয়তঃ প্যারেন্টিং ওয়ার্কশপ (অভিভাবকদের সচেতনতা)
আমাদের আশপাশে গড়ে ওঠা আঞ্চলিক সংগঠনগুলো কিংবা বাংলাদেশ সোসাইটি ও জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের মতো বড় বড় সামাজিক সংগঠনগুলোর মাধ্যমে এই সংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। আমেরিকার সংস্কৃতি ও পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে গিয়ে অনেক সময় এ দেশের মা-বাবা এবং সন্তানদের মাঝে একটি বিশাল মানসিক দূরত্ব তৈরি হয়। এই দূরত্ব কমিয়ে আনতে মা-বাবাদের জন্য বিশেষ ‘প্যারেন্টিং ওয়ার্কশপ’ বা অভিভাবকত্ববিষয়ক কর্মশালার আয়োজন করা এখন সময়ের দাবি। এর মাধ্যমে তারা শিখতে পারবেন কীভাবে নতুন পরিবেশেও সন্তানদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে তাদের সঠিক ও সুন্দর পথে পরিচালিত করা যায়।”
আমাদের ভাষা, ধর্ম ও নৈতিক মূল্যবোধ যদি হারিয়ে ফেলি, তবে প্রবাসে আমাদের এই কোটি কোটি টাকার ঘরবাড়ি কেনা আর বিশাল সব সংগঠনের নেতৃত্ব দেওয়ার কোনো মূল্যই থাকবে না। আমাদের সন্তানদের এই সংকটের দায় যেমন আমাদের সামাজিক নেতৃত্ব এড়াতে পারে না, তেমনি মা-বাবা হিসেবে আমরাও দায়মুক্ত নই।
এখনই সময় নেতৃত্ব ও নামের মোহ থেকে বেরিয়ে এসে আমাদের সন্তানদের দিকে মনোযোগ দেওয়ার। নইলে একদিন হয়তো আমাদের চারপাশটা কোলাহলে মুখরিত থাকবে, কিন্তু আমাদের নিজের ঘরেই আমাদের সন্তানেরা আমাদের জন্য পরবাসী হয়ে যাবে।