September 16, 2026, 4:41 am

নির্বাচন কমিশনকে দলীয়করণ করার ফল কখনোই ভালো হবে না: সাদিক কায়েম

Reporter Name
  • Update Time : Wednesday, September 16, 2026
  • 12 Time View

নির্বাচন কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সংবিধিবদ্ধ ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাধীনভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করার সুযোগ দেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি মো. আবু সাদিক, যিনি সাদিক কায়েম নামে পরিচিত। তিনি স্পষ্টভাষায় উল্লেখ করেছেন যে, নির্বাচন কমিশনকে রাজনৈতিকভাবে দলীয়করণ কিংবা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হলে তার পরিণতি দেশের জন্য কখনোই মঙ্গলজনক হবে না। সম্প্রতি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বিস্তারিত স্ট্যাটাসে তিনি এই মন্তব্য করেন এবং দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ওই পোস্টে তিনি সম্প্রতি অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার নির্বাচন সংক্রান্ত নানা ঘটনার উদাহরণ টেনে বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যকার পরস্পরবিরোধী অবস্থানের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, নির্বাচন কমিশন ভবন থেকে ইসি সানাউল্লাহ ঘোষণা দিয়েছিলেন যে আগামী ১২ নভেম্বর থেকে মোট সাত ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। অথচ এর ঠিক পরের দিনই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মন্তব্য করেন যে নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা করা ওই তারিখটি চূড়ান্ত নয় এবং এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকেও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের এই ধরনের সাংঘর্ষিক বক্তব্যের ফলে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রক্রিয়ায় সরকারের চরম তালবাহানা ও প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা জনসমক্ষে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে মনে করেন ডাকসু ভিপি। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানও জানিয়েছেন স্থানীয় নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে সরকারের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পুরো পরিস্থিতির আলোকে তাঁর মতে, সরকার নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত তারিখ উপেক্ষা করে নিজেদের সুবিধা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিকে দিয়ে নতুন তারিখ ঘোষণা করাতে চাইছে এবং এর মাধ্যমে মূলত ইসিকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার অপচেষ্টা চলছে।

একটি দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের স্বাধীন ভূমিকা যে কতখানি অপরিহার্য, তা নিজের বক্তব্যে পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেন এই ছাত্রনেতা। অতীতের স্বৈরাচারী সরকারের শাসনামলের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, অতীতে ইসিকে নিয়ন্ত্রণ করে দেশে কখনোই সুস্থ ও স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। বর্তমান রাজনৈতিক দলগুলোর আচরণে মনে হচ্ছে তারা পূর্বের স্বৈরাচারী আমলের পন্থাই অনুসরণ করতে চাইছে এবং নির্বাচন কমিশনসহ অন্যান্য সাংবিধানিক সংস্থাকে কব্জা করে দেশে একটি নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে উদ্যত হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © ajkerdorpon.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com