October 1, 2026, 3:54 pm
Title :
ট্রাম্পের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পরও কূটনীতির পক্ষে ইরান প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে রাজনৈতিক আনুগত্য নয়, মেধাকে গুরুত্ব দিন: ডা. শফিকুর রহমান যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী জাতিসঙ্ঘ সফর শেষে নিউইয়র্ক থেকে দুবাই পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর হাফেজদের ‘নেক্সাস’ উপহার! নেপথ্যে কারা? পটুয়াখালীতে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের অষ্টম ব্যাচের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত দর্জি থেকে ফ্রিল্যান্সার, প্রশিক্ষণ থেকে উদ্যোক্তা—তরুণদের সাফল্যের অনুপ্রেরণাদায়ী গল্প প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেক সভা চলছে ব্যুরো বাংলাদেশের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, বেতন ৯০ হাজার টাকা শাপলা চত্বর হত্যা মামলায় গ্রেফতার আসামিরা ট্রাইব্যুনালে

নীল নদের কুমিরই কি আটকে দেবে ট্রাম্পের সব নির্মাণ প্রকল্প?

Reporter Name
  • Update Time : Monday, September 7, 2026
  • 37 Time View

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউজে বিশাল বলরুম নির্মাণের উদ্যোগ ঘিরে শুরু হওয়া আইনি লড়াই এখন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের রায়ের সুবাদে নতুন মোড় নিয়েছে। রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে প্রেসিডেন্টের অন্যান্য নির্মাণ প্রকল্পের বিরুদ্ধে চলমান আইনি চ্যালেঞ্জগুলোতে এই রায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে ১৯৭০-এর দশকে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি পরিত্যক্ত স্কি রিসোর্ট এবং মিশরের নীল নদের কুমিরকে কেন্দ্র করে করা পুরোনো মামলার প্রসঙ্গ টেনে ‘নান্দনিক স্বার্থে’ আদালতে যাওয়ার অধিকার নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। আইনি পরিভাষায় ‘অ্যাসথেটিক স্ট্যান্ডিং’ বা নান্দনিক স্বার্থ বলতে বোঝায়, কোনো প্রকল্পের কারণে কোনো ব্যক্তি যদি দৃশ্য, স্থাপনা বা বিপন্ন প্রাণী দেখার সুযোগ হারান, তবে তিনি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আইনি পদক্ষেপ নিতে পারেন। তবে এ ক্ষেত্রে মামলাকারীকে অবশ্যই সুনির্দিষ্টভাবে প্রমাণ করতে হবে যে ওই প্রকল্পের মাধ্যমে তার প্রত্যক্ষ ও বাস্তব কোনো ক্ষতি সাধিত হচ্ছে।

ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ষাটের দশকের মাঝামাঝি ক্যালিফোর্নিয়ার সিকোইয়া ন্যাশনাল পার্কসংলগ্ন একটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত এলাকায় দ্য ওয়াল্ট ডিজনি কোম্পানি একটি বিশাল স্কি রিসোর্ট বানানোর পরিকল্পনা করেছিল। পরিবেশবাদী সংগঠন ‘সিয়েরা ক্লাব’ এই বাণিজ্যিক প্রকল্পের বিরুদ্ধে সরকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলে ১৯৭২ সালে মামলাটি মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে গড়ায়। আদালত সে সময় রায় দিয়েছিলেন যে, পরিবেশের ক্ষতি হলেও সিয়েরা ক্লাব বা তাদের কোনো সদস্য ব্যক্তিগতভাবে কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তা তারা প্রমাণ করতে পারেননি, ফলে তাদের মামলা করার আইনি অধিকার নেই। আইনি লড়াইয়ে হেরে গেলেও ওই সংগঠনের তীব্র আন্দোলনের মুখে ডিজনি কোম্পানি প্রকল্পটি শেষ পর্যন্ত বাতিল করতে বাধ্য হয় এবং পরবর্তী সময়ে ওই এলাকাটিকে জাতীয় উদ্যানের অংশ হিসেবে চিরতরে সুরক্ষিত করা হয়। অন্যদিকে, নব্বইয়ের দশকের শুরুতে নীল নদের অববাহিকায় উন্নয়ন প্রকল্পের ফলে কুমিরের আবাস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনায় মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছিলেন যে শুধু ক্ষতির আশঙ্কা তুললেই মামলা করার অধিকার তৈরি হয় না, এর জন্য বাস্তব ক্ষতি প্রমাণ করা বাধ্যতামূলক।

সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ওয়াশিংটনে নতুন অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা করলে ঐতিহাসিক ও পরিবেশ সংরক্ষণবাদীরা নান্দনিক ও পরিবেশগত ক্ষতির অভিযোগ এনে আদালতের দ্বারস্থ হন। সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের এসব নির্মাণকাজের পক্ষে রায় দেওয়ার সময় সেই পুরোনো ‘নীল নদের কুমির’ মামলার আইনি যুক্তিটি সামনে নিয়ে আসেন। প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস ও উদারপন্থি বিচারপতিদের আপত্তি সত্ত্বেও পাঁচ রক্ষণশীল বিচারপতির রায়ের ফলে ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণকারী একটি সংগঠন বলরুম নির্মাণের বিরুদ্ধে সহজে মামলা করার সুযোগ হারায়। এর পরপরই ট্রাম্প প্রশাসন ওয়াশিংটনের অন্যান্য নির্মাণ প্রকল্পের বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলো বন্ধ করতে এই আইনি নজির জোরালোভাবে ব্যবহার করতে শুরু করেছে। ট্রাম্পের আইনজীবীদের মতে, সমালোচকরা কোনো ‘বাস্তব ও নির্দিষ্ট ক্ষতি’ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন এবং কেবল কোনো বিষয়ে বিরক্তি বা অপছন্দকে আইনি ক্ষতির সমতুল্য করা যায় না।

এদিকে পটোম্যাক নদীর তীরে তোরণ নির্মাণ কিংবা সরকারি গলফ কোর্স ও লিংকন মেমোরিয়ালের সংস্কার কাজের বিরুদ্ধে চলা মামলাগুলোতেও এই রায়কে হাতিয়ার করা হচ্ছে। প্রধান বিচারপতি রবার্টস তার ভিন্নমত প্রকাশ করে প্রশ্ন তুলেছেন যে, সুদূর মিশরে কুমির দেখতে চাওয়ার অধিকার যদি আইনি ভিত্তি পেতে পারে, তবে নাগরিকদের হোয়াইট হাউজ বা ঐতিহাসিক স্থাপনা দেখতে চাওয়ার বিষয়টি কেন বিবেচনায় আসবে না। তবে সংশ্লিষ্ট আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আদালতের এই নতুন রায় চ্যালেঞ্জের পথকে বেশ কঠিন করে তুললেও তা পুরোপুরি অসম্ভব করে দেয়নি। মামলাকারীদের এখন আরও বেশি সুনির্দিষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে যে প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলো ঠিক কী উপায়ে তাদের ব্যক্তিগত ও প্রত্যক্ষ ক্ষতি করছে। আইনি গবেষকদের মতে, ভবিষ্যতে এই ধরনের রায় পরিবেশ আইন ও নান্দনিক ক্ষতির ধারণাকে আরও সীমিত করে ফেলতে পারে, যা সরকারের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইকে আরও বেশি চ্যালেঞ্জিং করে তুলবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © ajkerdorpon.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com