রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে আরেক দফা ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রুশ প্রেসিডেন্টের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহকারী ইউরি উশাকভ এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ফোনালাপে পুতিন নভগোরোদ অঞ্চলে অবস্থিত তার রাষ্ট্রীয় বাসভবনে চালানো ইউক্রেনের সন্ত্রাসী হামলার বিষয়টি ট্রাম্পকে অবহিত করেন।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) উশাকভের বরাতে তাসের খবরে বলা হয়, ফোনালাপে ট্রাম্প জানান, এই হামলার খবর শুনে তিনি হতবাক হয়েছেন এবং হামলার কারণে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কাজ করতে বেশ প্রভাব পড়বে বলে পুতিনকে জানিয়েছেন তিনি।
পুতিন ট্রাম্পকে জানান, মার-আ-লাগোতে আলোচনা শেষ হওয়ার পরপরই কিয়েভ এই হামলা চালিয়েছে এবং তিনি সতর্ক করে দেন, এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জবাব অত্যন্ত কঠোরভাবে দেয়া হবে। তিনি আরও বলেন, ‘এই রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদের ঘটনার পর ইউক্রেন ইস্যুতে আলোচনাভিত্তিক অবস্থান পুনর্বিবেচনা করবে মস্কো এবং পূর্ববর্তী পর্যায়ে অর্জিত বিভিন্ন সমঝোতা ও সমাধানের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আসতে পারে।’ যুক্তরাষ্ট্রকে বিষয়টি বোঝা উচিত বলেও মন্তব্য করেন রুশ প্রেসিডেন্ট।
কথোপকথনে ট্রাম্প ইউক্রেনের এই হামলার খবরে গভীর বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘ইউক্রেনীয় পক্ষের এমন বেপরোয়া পদক্ষেপ তিনি কল্পনাও করতে পারেন না।’ ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন, এ ঘটনা ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কাজের ধরন ও নীতিতে প্রভাব ফেলবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘ঈশ্বরকে ধন্যবাদ যে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র দেয়নি।’
ফোনালাপে পুতিন ও ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র–ইউক্রেনের মধ্যে ফ্লোরিডার মার-আ-লাগোতে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক আলোচনার বিষয়েও কথা বলেন। উশাকভ জানান, ট্রাম্প ও তার উপদেষ্টারা ইউক্রেনীয় প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ওই বৈঠকের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন। আলোচনায় ইউক্রেনকে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য কোনো ‘টাইম-আউট’ নেয়ার চেষ্টা না করে বরং একটি বিস্তৃত চুক্তিতে পৌঁছানোর ওপর জোর দিতে বলা হয়েছে, যা সশস্ত্র সংঘাতের প্রকৃত অবসান ঘটাতে সহায়ক হবে।
ক্রেমলিনের এই সহকারী আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জোর দিয়ে বলা হয়েছে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির আহ্বানের আড়ালে না থেকে কিয়েভকে সংঘাতের অবসানে বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে। রাশিয়ার ধারণা, ইউক্রেনের প্রস্তাবগুলো কিয়েভকে দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে পারে।
রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক যোগাযোগের মাত্রা নিয়েও মন্তব্য করেন উশাকভ। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রেসিডেন্ট পুতিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মোট ১৭ বার কথা বলেছেন, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ১০টি টেলিফোনালাপ রয়েছে। এর বাইরে আলাস্কা সফর এবং ট্রাম্পের বিশেষ দূতদের সঙ্গে ছয়টি বৈঠকও অন্তর্ভুক্ত।
এর আগে এক বিবৃতিতে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ জানান, সোমবার রাশিয়ার উত্তরপশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ নভগোরোদে পুতিনের সরকারি বাসভবনকে লক্ষ্য করে ৯১টি বিস্ফোরকবাহী দূরপাল্লার ড্রোন নিক্ষেপ করেছে ইউক্রেনীয় বাহিনী। রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অবশ্য সবগুলো ড্রোন হামলা করার আগেই আটকে দিতে পেরেছে বলে জানান তিনি।