দেশের ভূমি ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কাজ করছে বর্তমান সরকার। ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমাতে এবং ভূমির মালিকানা নিয়ে জটিলতা নিরসনে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মতো ‘প্রজন্মভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় মালিকানা ব্যবস্থা’ চালুর পরিকল্পনা করছে ভূমি মন্ত্রণালয়। এই পদ্ধতিতে পারিবারিক উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত জমির মালিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্ড সিস্টেমের মাধ্যমে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে হস্তান্তরিত হবে, যা জমি নিয়ে পারিবারিক কলহ ও আইনি জটিলতা অনেকাংশে কমিয়ে আনবে।
ভূমিমন্ত্রী আরও জানান, দেশের মূল্যবান কৃষিজমি সুরক্ষায় সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। অপরিকল্পিত শিল্পায়ন রোধে কৃষিজমিতে নতুন করে কোনো শিল্প স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হবে না এবং ভবিষ্যতে অকৃষি বা চরাঞ্চলের জমিতে শিল্পায়নকে উৎসাহিত করা হবে। এছাড়া ডিজিটাল সার্ভে প্রকল্পের মাধ্যমে ভূমি তথ্য ব্যবস্থাপনা ঢেলে সাজানোর কাজ চলছে, যাতে প্রকৃত ভূমিহীনরা সরকারি খাস জমি পাওয়ার অগ্রাধিকার পান এবং অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে জমি উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
রেজিস্ট্রি বিভাগকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে আনার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, এতে জবাবদিহি নিশ্চিত করা সহজ হবে। এছাড়া বিগত সময়ের দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগগুলো যথাযথ তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছে পাঠানো হচ্ছে। ভূমি সেবায় দুর্নীতির অভিযোগ কমিয়ে আনতে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া অনুসরণসহ মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ওপর ডিজিটাল নজরদারি বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।