রাজধানীর লালবাগের খাজা দেওয়ান সেকেন্ড লেনের গৃহবধূ সুলতানা রহমান রোববার দুপুরে টিভিতে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংবাদ দেখে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। সংবাদে বলা হয়, এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (এসডো) কর্তৃক দেশে পরীক্ষিত ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে—অর্থাৎ প্রত্যাশিত হিসেবে প্রায় ৭৬.৫ শতাংশ পণ্যে এই ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রতি ১০০ গ্রামে ২০ থেকে ৩২০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা মেলা গেছে এবং বিশেষভাবে শিশুদের জন্য বাজারজাত ছয়টি টুথপেস্টের মধ্যে চারটিতেও এ কণা শনাক্ত হয়েছে, যা সুলতানার মতো শিশুসন্তানেরা টুথপেস্ট গিলে ফেলে এমন পরিবারের কাছে উদ্বিগ্নতার কারণ তৈরি করেছে।
জনস্বাস্থ্য ও দন্তচিকিৎসা সংশ্লিষ্ট বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞ জাগো নিউজের সঙ্গে কথা বলার সময় গবেষণার পূর্ণ রিপোর্ট না দেখায় তাৎক্ষণিক মন্তব্য থেকে বিরত রয়েছেন। তবে তারা মনে করেন এই ফলাফল গুরুত্ব নিয়ে দেখা উচিত; জানা দরকার টুথপেস্ট থেকেই শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিক ঢোকছে কি না এবং দীর্ঘমেয়াদে তত্ত্বগত কী প্রভাব থাকতে পারে। আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, শুধু প্রসাধনী নয়, খাদ্য, পলিথিন ও প্লাস্টিক পাত্রের ব্যবহার থেকেও মাইক্রোপ্লাস্টিক বিভিন্ন খাবারে ও কখনো কখনো মানুষের রক্ত, ফুসফুস, প্লাসেন্টা ও অন্যান্য টিস্যুতে শনাক্ত হয়েছে। তিনি যোগ করেন, প্রাপ্তবয়স্করা সাধারণত কুলি করে ফলে টুথপেস্টের কণার শরীরে প্রবেশের সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম, কিন্তু শিশুদের ক্ষেত্রে আরও গবেষণা জরুরি।
দাঁত চিকিৎসকরা বলছেন দাঁত পরিষ্কারের জন্য নিয়মিত ব্রাশ করা জরুরি; একক গবেষণার ভিত্তিতে ব্রাশ বন্ধ করার কোনো বৈজ্ঞানিক যুক্তি নেই। তাদের পরামর্শ—টুথপেস্টে থাকা উপাদানের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে, নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ দ্রুত গবেষণার ফল যাচাই করে উপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে এবং সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি ও পরিবেশগত প্রভাব সম্পর্কে আরও বিস্তৃত গবেষণা করা প্রয়োজন। কিছু বিশেষজ্ঞ ক্যালসিয়াম কার্বোনেটের মতো বিকল্প উপাদান আলোচনায় এনেছেন, যদিও খরচসহ অন্যান্য দিক বিবেচনা করতে হবে। একই সঙ্গে তারা অযথা আতঙ্ক না করে সচেতনতা বাড়াতে ও সংবাদপত্রিক ও বৈজ্ঞানিক তথ্য উন্মুক্ত করে নীতিগতভাবে নিখুঁতভাবে তদন্তের আহ্বান জানাচ্ছেন; প্রতিবেদনে নাম থাকা এক টুথপেস্টের অভ্যন্তরীণ বাজারের পাশাপাশি মালয়েশিয়া, ভুটান ও নেপালে রপ্তানি হওয়ার কথাও উল্লেখ থাকায় বৈজ্ঞানিক ও নিরপেক্ষভাবে বিষয়টি যাচাই করার পরামর্শ দিচ্ছেন।