বক্তারা সতর্ক করে বলেছেন, ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিচার শেষ হওয়ার আগেই অভিযুক্তদের নিরাময় বা ছাড় দিলে সেটি ভবিষ্যতের জন্য খুবই বিপজ্জনক প্রতিকৃতি তৈরি করবে। শনিবার ২৫ জুলাই তোপখানা রোডের সিরডাপ মিলনায়তনে মানবাধিকার সংস্থা অধিকার আয়োজিত পরামর্শ সভায় এই আশঙ্কা ব্যক্ত করা হয় এবং বলা হয় এমন বার্তা গেলে মানুষ মনে করবে ব্যাপক সহিংসতা, গুম বা মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন করেও শেষ পর্যন্ত দণ্ডমুক্ত হওয়া সম্ভব। অধিকার প্রেসিডেন্ট তাসনিম সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে সভায় বিভিন্ন বিচারক, আইনজীবী, সাংবাদিক এবং মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিচারপ্রণালী ও সংবিধানিক প্রতিষ্ঠান শক্ত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন এবং বলেন, সরকারি শক্তি ও পদে দলীয় বিবেচনা থাকলে বিচারব্যবস্থা স্বতন্ত্র থাকতে পারে না। তিনি উল্লেখ করেন যে প্রশাসনিক ক্ষেত্রে অতীতে থাকা ফ্যাসিস্ট প্রবণতার ছাপ কাটাতে এখনও চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে এবং নিম্ন আদালতের বিচারকদের বিরুদ্ধে তৎপরতা নেওয়ার ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের ক্ষমতা সীমিত, ফলে অনেক বদল ও পদস্থাপন সুপ্রিম কোর্টের অনুমোদন ছাড়াই সম্পন্ন হচ্ছে না। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম ও সাংবাদিক মাহমুদুর রহমানসহ অনেকে বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং দীর্ঘমেয়াদি জবাবদিহির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেন।
সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম ও বিশিষ্টরা বলেন, বর্তমানে ট্রাইব্যুনাল ও তদন্ত সংস্থার জনবল-অবকাঠামো পর্যাপ্ত নয়; জুলাই–আগস্টে ৬১টি জেলায় সংঘটিত ঘটনাগুলো চিফ বিতরণের জন্য বড় পরিসরের লোকবল এবং অতিরিক্ত ট্রাইব্যুনালের প্রয়োজন রয়েছে। তারা সাক্ষীদের নিরাপত্তা এবং প্রাসঙ্গিক তদন্ত দ্রুততর করার আহ্বান জানান, নইলে ভবিষ্যতে কেউ জবানবন্দি দিতে যেতেই ভুলবে। আলোচনা অংশগ্রহণকারীরা বলেন, শুধু অতীতের অন্যায়ের প্রতিকার নয়, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই ভবিষ্যতে এমন অপরাধ ঠেকানোর মূল উপায়; তাই সকল অভিযুক্তের বিরুদ্ধে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ বিচার চলতেই হবে এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া মানবাধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।