ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে মানিকগঞ্জ-৩ (মানিকগঞ্জ–সাটুরিয়া) আসনে নয়া রাজনৈতিক মেরুকরণ ও কৌশল বদলের খেলা শুরু হয়েছে নীরবে।
প্রকাশ্যে স্বতন্ত্র মুখোশ আর ভেতরে ভেতরে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক কব্জায় নিতে রাজনীতির সমীকরণ নিয়ে নির্বাচনি মাঠে নেমেছেন আমেরিকার মিসৌরী আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ড. রফিকুল ইসলাম খান (ড. রফিক খান)।
ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের আমলে দলীয় পদধারী ও শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত ড. রফিক খান এবার নির্বাচন করছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিচয়ে। রাজনৈতিক খোলস বদল করে। কৌশলে ফ্যাসিস্ট সরকারের তকমা আড়াল করে নিজেকে জনদরদী ও সাচ্চা জনসেবক হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছেন তিনি। ইতোমধ্যে তিনি মানিকগঞ্জ-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
অনুসন্ধান ও সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ড. রফিক খান ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-৩ আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেতে ব্যাপক দৌড়ঝাঁপ চালিয়েছিলেন। দলীয় মনোনয়নপত্র কিনে জমাও দিয়েছিলেন। তবে সেই সময় সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের ক্ষমতার দাপট ও ক্যাডার বাহিনীর হাতে ভীষণভাবে হেনস্তার শিকার হন। এমনকি তাকে সাটুরিয়া থানায় ধরে এনে অস্ত্র মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার চেষ্টাও করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে তিনি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে এলাকা ত্যাগ করেন।
উল্লেখ্য, এ নিয়ে দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় ২০১৮ সালের ১৪ নভেম্বর প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছিল।
সাটুরিয়া উপজেলার দড়গ্রাম ইউনিয়নের নওগাঁও গ্রামের খান পরিবারের সন্তান ড. রফিকুল ইসলাম খান দীর্ঘদিন আমেরিকার মিসৌরী আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে দেশে ফিরে এবার নির্বাচনি রাজনীতিতে নতুন কৌশলে নাম লেখান তিনি।
নিজেকে সম্পদলোভী রাজনীতিক নন- এমন বার্তা দিতে ব্যক্তিগত সম্পদ দিয়ে প্রয়াত মা রাবেয়া বেগমের নামে রাবেয়া ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট গঠন করেছেন ড. রফিক খান।
তিনি দাবি করেন, ব্যক্তিগত জীবনে আমার সম্পদের কোনো লোভ নেই। আমার সব সম্পদ ট্রাস্টে দিয়ে দিয়েছি। এখন এলাকায় মানুষের সেবাব্রত নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।
নির্বাচনি মাঠে আওয়ামী লীগের তকমা ঝেড়ে ফেলে তিনি এখন গরিবের বন্ধু পরিচয়ে প্রচার চালাচ্ছেন। একই সঙ্গে আওয়ামী ঘরানার ভোটব্যাংক পুনরুদ্ধারে নীরব দেন-দরবারও চলছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। যেসব নেতাকর্মী এলাকা ছেড়ে পলাতক, তাদের আত্মীয়-স্বজনদের মাধ্যমে গোপন যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, ড. রফিক খান ইতোমধ্যে হিন্দু কমিউনিটির একাধিক নীতি-নির্ধারক ও প্রভাবশালী নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন। এছাড়া মানিকগঞ্জ শহরের কয়েকজন আইনজীবী, পূজা উদযাপন পরিষদের একাধিক সাবেক নেতা এবং স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনে নেপথ্যে থেকে প্রভাব বিস্তারকারী বেশ কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গেও তার নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে।
ড. রফিক খানের ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, নির্বাচন যদি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়- তাহলে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংকসহ তার এলাকার সাধারণ মানুষের সমর্থন তিনি পাবেন- এ আশাতেই তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন।
ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের শাসনামলে শেখ হাসিনার সঙ্গে আমেরিকা প্রবাসী আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে ড. রফিক খানের ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়টি জেলা ও সাটুরিয়া উপজেলা পর্যায়ের অধিকাংশ নেতাকর্মীর কাছেই পরিচিত।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, তার ব্যক্তিগত ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজের অ্যালবামে তার সঙ্গে সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনিসহ বিভিন্ন প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতাদের ছবি এখনো বিদ্যমান। তিনি তার ফেসবুক পেইজে আপলোড করা এক পোস্টারে দাবি করেছেন- আসুন সম্ভাবনার পথে চলি; আপস নয়, অন্যায় ও অপশক্তির বিরুদ্ধে সংগ্রাম করাই রাজনীতি ড. রফিক খান। আসুন দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ি!
আমেরিকা থাকতে সেখানের দলীয় সভাপতি ছিলেন বলে স্বীকার করে যুগান্তরকে বৃহস্পতিবার ড. রফিকুল ইসলাম জানান, দেশে ফিরে ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়ে নির্বাচন করতে গিয়ে সফলতা না পেয়ে এবার তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন।
তিনি নিজেকে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি দাবি করে বলেন, আওয়ামী লীগ ঘরানার ভোট তিনি আশা করতেই পারেন বলে জানান।