August 17, 2026, 9:24 am
Title :
বক্তব্য ও বিতর্কে ছয় মাসে আলোচনায় যে সব মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী গণঅধিকার পরিষদ এখন গণধিকৃত পরিষদ: আমির হামজা সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ অর্থনীতি, আইনশৃঙ্খলা ও বাজার ব্যবস্থাপনা প্রতিশ্রুতির কতটা বাস্তবায়ন হলো, কী বলছেন বিরোধীদল ও বিশ্লেষকেরা তারেক রহমানের বিএনপি সরকারের প্রথম ছয়মাস কেমন কাটল? সরকারের ১৮০ দিন পূর্তিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মতবিনিময় সভা আজ জনসম্মুখে ডিএফওকে ফোন মন্ত্রীর, রেঞ্জ কর্মকর্তাকে বদলির অনুরোধ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কার্যকর তদন্ত চলছে: চিফ প্রসিকিউটর শিক্ষার্থী হেনস্থায় প্রভোস্টের পদত্যাগ ও সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের দাবি ছাত্রকে অবরুদ্ধ করে ‘ভয়ভীতি প্রদর্শন’, প্রভোস্ট বললেন ‘নাস্তা করিয়েছি’

শাকসু নির্বাচনেও শীর্ষ তিন পদে এগিয়ে শিবির

Reporter Name
  • Update Time : Monday, January 19, 2026
  • 113 Time View

নিউজ ডেস্ক:
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচনেও শীর্ষ তিন পদে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীদের এগিয়ে থাকার আভাস পাওয়া গেছে। ৪৬৯ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে করা এক জরিপে দেখা গেছে, ভিপি পদে শিবির সমর্থিত ‘দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের দেলোয়ার হাসান শিশির ৩২.৬ শতাংশ ভোটার তাকে ভোট দিতে চান। জরিপ অনুযায়ী, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদলের ‘সম্মিলিত সাস্টিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের মোস্তাকিম বিল্লাহ পেতে পারেন মাত্র ১২.৮ শতাংশ। আজ সোমবার (১৯ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ‘সোচ্চার: টর্চার ওয়াচডগ বাংলাদেশ’ এই জরিপ প্রকাশ করেছে।

জরিপে এজিএস পদেও বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে ছাত্রশিবিরের মো. শাকিল (শাকিল মাহমুদ), ২৭.৯ শতাংশ। যেখানে ছাত্রদলের প্রার্থী মো. জহিরুল ইসলামকে ভোট দিতে চান করছেন ১৩.৪ শতাংশ শিক্ষার্থী। তবে জিএস পদে বেশ হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে বলে সোচ্চারের জরিপে উঠে এসেছে। জরিপ বলছে, জিএস পদে ছাত্রশিবিরের মো. মুজাহিদুল ইসলাম ১৬.২%, ছাত্রদলের মারুফ বিল্লাহ ১৫.১% এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ফয়সাল হোসেন ১০.৪% ভোট পেতে পারেন।

সোচ্চার জানিয়েছে, জরিপে মোট ৪৬৯ অংশগ্রহনকারীর মধ্যে ৪০.১% নারী, ১০.৪% অমুসলিম এবং ১.১% ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর (অবাঙালি) শিক্ষার্থী রয়েছেন। এর মধ্যে ৮১% শিক্ষার্থী বলেছেন তারা শাকসুতে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ছাত্রীদের মধ্যে এর হার ৭০.৭% এবং ছাত্রদের মধ্যে ৮৭.৯%।

জরিপ বলছে, ৪৯% শিক্ষার্থী মনে করেন শাকসু নির্বাচনে অন্যান্য ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের প্রভাব পড়বে। ছাত্রীদের মধ্যে এর হার ৩৫.৬% এবং ছাত্রদের মধ্যে ৫৮%। তবে ২৫.৬% শিক্ষার্থী এ বিষয়ে মন্তব্য করেননি।

সোচ্চারের জরিপে উল্লেখযোগ্য একটি দিক ‘ক্যাম্পাসে নির্যাতন’। জরিপে দেখা গেছে, ২৪.১% শিক্ষার্থী নিজে শারীরিক বা মানসিকভাবে ক্যাম্পাসে নির্যাতিত হয়েছেন। এর মধ্যে ছেলেরা নির্যাতিত হয়েছেন মেয়েদের চেয়ে বেশি, ২৬%। মেয়েরা নির্যাতিত হয়েছেন ২১.৩%। এ ছাড়া ৪২% শিক্ষার্থী অন্যকে নির্যাতিত হতে দেখেছেন। পুরুষদের মধ্যে এর পরিমাণ ৪৮.৪% এবং নারীদের মধ্যে ৩২.৪%। জরিপে অংশ নেওয়া ৫৯.৩% শিক্ষার্থী মনে করেন শাকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধিরা ক্যাম্পাসকে নির্যাতনমুক্ত করতে পারবেন।

শাকসু প্রতিনিধিদের কাছে শিক্ষার্থীদের কয়েকটি মৌলিক চাওয়া হচ্ছে— সেশনজট, দুর্নীতি, নির্যাতন ও সহিংসতামুক্ত নিরাপদ ক্যাম্পাস, আবাসন সমস্যার সমাধান, খাবারের মান উন্নয়ন, অ্যাকাডেমিক পরিবেশ উন্নতকরণ, এবং শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক প্রতিনিধিত্ব যেখানে দলের উর্ধ্বে উঠে শিক্ষার্থীরা প্রাধান্য পাবে। ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে যে যে প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলোকে প্রাধান্য দিবে— ব্যক্তিত্বসম্পন্ন হওয়া, সততা, ভাল সংগঠক, ধার্মিক, গুড সেন্স অব হিউমার, প্রগতিশীল, ভাল শিক্ষার্থী, ভাল বক্তা, এবং জুলাই আন্দোলনে ভূমিকা। যে যে প্রধান প্রধান বৈশিষ্ট্য থাকলে কোন প্রার্থীকে ভোট দিবে না তা হচ্ছে— ব্যক্তিত্বহীন, মাদকাসক্ত, চাঁদাবাজি ও দূর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত, যৌন কেলেঙ্কারি আছে, ধর্মবিদ্বেষী, সন্ত্রাসী, মিথ্যাবাদী, ছাত্র নির্যাতনে জড়িত ছিল, ধুমপায়ী এবং বদমেজাজী।

শীর্ষ তিন পদ সম্পর্কে জরিপে বলা হয়েছে, ‘ভিপি পদে কাকে ভোট দিবেন?’ এমন প্রশ্নে গোপন ব্যালট পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীরা ভোট প্রয়োগ করেন। ফলাফল অনুযায়ী, দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য প্যানেলের দেলোয়ার হাসান শিশির ৩২.৬%, সম্মিলিত সাস্টিয়ান ঐক্য প্যানেলের মোস্তাকিম বিল্লাহ ১২.৮%, ‘স্বতন্ত্র সাধারণের ঐক্যস্বর’ প্যানেলের মুহয়ী শারদ ৫.৫১%, স্বতন্ত্র প্রার্থী মমিনুর রশিদ শুভ ২.১%। তবে এখনও সিদ্ধান্ত নেননি ৪০.৫% শিক্ষার্থী। এর মধ্যে পুরুষ সিদ্ধান্ত নেননি ৩৭% এবং নারী ৪৫.৭%।

জরিপের প্রশ্নে জিএস পদে দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য প্যানেলের মো. মুজাহিদুল ইসলাম ১৬.২%, সম্মিলিত সাস্টিয়ান ঐক্য প্যানেলের মারুফ বিল্লাহ ১৫.১%, স্বতন্ত্র ফয়সাল হোসেন ১০.৪%, স্বতন্ত্র মো. জুনায়েদ হাসান ৯.০১%, স্বতন্ত্র জুনায়েদ আহমেদ ৮.৭১%, সাধারণের ঐক্যস্বর প্যানেলের সাইফুর রহমান সিফাত ৩.২% এবং অন্যান্য প্রার্থীরা ০.৬% ভোট পেয়েছেন। এখনও সিদ্ধান্ত নেননি ৩০.৭%, এর মধ্যে পুরুষ ২৬.৭% এবং নারী ৩৬.৭%।

এজিএস পদে দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য প্যানেলের মো. শাকিল (শাকিল মাহমুদ) ২৭.৯%, সম্মিলিত সাস্টিয়ান ঐক্য প্যানেলের মো. জহিরুল ইসলাম ১৩.৪%, সাধারণের ঐক্যস্বর প্যানেলের হাফিজুর ইসলাম হাফিজ ৭.৯১%, স্বতন্ত্র আতাহারুল ইসলাম রাহিন ২.১% ভোট পেয়েছেন। এখনও ৪২% ভোটার কোনো সিদ্ধান্ত নেননি, এর মধ্যে পুরুষ ৩৬.৭% এবং নারী ৫০%।

এ ছাড়া ‘ভিপি, জিএস, এজিএসের পর অন্যান্য পদগুলোতে কোন প্যানেলের প্রার্থীদের বেশিরভাগ পজিশনে ভোট দিবেন?’— এ প্রশ্নের জবাবে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, ছাত্রশিবির ২৮.৬%, ছাত্রদল ৮.৫%, স্বতন্ত্র ১৯%, অন্যান্য ৩%। ‘বলতে পারি না’ বা ‘আনডিসাইডেড’ বা ভোট দিবে না ২৮.৫% শিক্ষার্থী।

আনডিসাইডেড ভোটারদের (এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি) ডেমোগ্রাফিক তথ্য ও ভোটিং বিহেবিয়ার পর্যবেক্ষণ করে সোচ্চারের প্রেডিকশান হচ্ছে, ভিপি পদে ছাত্রশিবিরের প্যানেলের প্রার্থী মোট ভোট পাবেন ৫৩.৬% এবং ছাত্রদলের প্যানেলের প্রার্থী পাবেন ৩০%। অর্থাৎ ছাত্রশিবিরের প্রার্থী ২৩.৬% ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হবেন। একইভাবে জিএস পদে ছাত্রশিবিরের পাবেন ৩১.৪% ভোট, ছাত্রদলের প্রার্থী পাবেন ২৭% ভোট। ছাত্রশিবিরের প্রার্থী ৪.৪% ভোটে জয়লাভ করবেন। এই পদে সবচেয়ে বেশি কনটেস্ট হবে। তিনজন স্বতন্ত্র প্রার্থী জুনায়েদ হাসান, জুনায়েদ আহমেদ ও ফয়সাল হোসেন ৯% থেকে ১৪% করে ভোট পাবেন। আর এজিএস পদে ছাত্রশিবিরের প্রার্থী পাবেন ৪৬.৮% এবং ছাত্রদলের প্রার্থী পাবেন ২৫.৪%। শিবিরের প্রার্থী ২১.৪ % ভোটে জয়লাভ করবেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © ajkerdorpon.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com