ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটাতে একটি ২০ দফার শান্তি পরিকল্পনা ও নিরাপত্তা নিশ্চয়তা চুক্তির প্রস্তুতি এখন শেষের পথে। এই প্রেক্ষাপটে রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। আলোচনায় প্রধান বিষয় হিসেবে থাকছে যুদ্ধের সবচেয়ে বড় বাধা ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ইস্যুগুলো। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
বৈঠকের ঘোষণা দিয়ে জেলেনস্কি বলেন, ‘নতুন বছরের আগেই অনেক কিছু নির্ধারিত হয়ে যেতে পারে।’ তিনি জানান, ডনবাস অঞ্চল এবং জাপোরিজ্জিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলো এই আলোচনায় গুরুত্বের সঙ্গে স্থান পাবে।
রাশিয়া বর্তমানে পুরো ডনবাস অঞ্চলের (ডনেস্ক ও লুহানস্ক) পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ চাইছে। অন্যদিকে কিয়েভের অবস্থান হলো, বর্তমান ফ্রন্টলাইনে লড়াই থামানো হোক। এই অচলাবস্থা নিরসনে মধ্যস্থতাকারী যুক্তরাষ্ট্র একটি আপস প্রস্তাব দিয়েছে। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ইউক্রেন যদি বিতর্কিত এলাকাগুলো ছেড়ে দেয়, তবে সেখানে একটি মুক্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হতে পারে। যদিও এই পরিকল্পনা বাস্তবে কীভাবে কাজ করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়।
জেলেনস্কি স্পষ্ট করেছেন যে, ভূখণ্ডের বিষয়ে যেকোনও ধরনের আপস বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ইউক্রেনের জনগণ সম্ভাব্য একটি গণভোটের মাধ্যমে নির্ধারণ করবে। এছাড়া ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি নিরাপত্তা গ্যারান্টি চুক্তি এবং ২০ দফার শান্তি পরিকল্পনার খসড়া প্রায় ৯০ শতাংশ চূড়ান্ত হয়েছে বলে তিনি জানান।
অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে এবার কিয়েভ আইনিভাবে বাধ্যবাধকতা আছে এমন শক্তিশালী চুক্তি চাইছে, যাতে রাশিয়ার পুনরায় আগ্রাসন ঠেকানো যায়।
ক্রেমলিন জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে শান্তি চুক্তির কিছু প্রস্তাব পেয়েছে এবং তা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছে। রাশিয়ার সংবাদপত্র কোমারসান্ত জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট পুতিন ইউক্রেনের অন্যান্য নিয়ন্ত্রিত এলাকা ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে পুরো ডনবাস অঞ্চল পাওয়ার শর্তে আলোচনায় আগ্রহী হতে পারেন।
তবে আলোচনার মাঝেই ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো এবং ওডেসা ও খারকিভে হামলা জোরদার করেছে রুশ বাহিনী। শুক্রবারও খারকিভে রুশ হামলায় অন্তত দুইজন নিহত হয়েছেন। জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে রাশিয়ার ওপর অতিরিক্ত আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগের বিষয়টিও তিনি জোরালোভাবে তুলবেন।
এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় ইউরোপীয় নেতারাও অনলাইনের মাধ্যমে যুক্ত হতে পারেন বলে জানা গেছে।