সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের গৃহীত ‘অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ২০২৬’ এবং ‘ওষুধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি ২০২৬’ বাতিল করার সিদ্ধান্তটি নিয়ে জনমনে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তালিকাটি বাতিলের ফলে প্রায় ১৭৮টি গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ সরকারি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে, যা ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য স্বস্তিদায়ক হলেও সাধারণ ক্রেতাদের জন্য শঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, কোম্পানিগুলো এখন নিজেদের ইচ্ছামতো ওষুধের দাম নির্ধারণ করার সুযোগ পাবে, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের ওপর।
তালিকা বাতিলের যৌক্তিকতা নিয়ে সরকারি পর্যায়ে ভিন্নমত থাকলেও সমালোচকরা একে জনস্বার্থের পরিপন্থী বলে অভিহিত করছেন। সাবেক সরকারি কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, ওষুধের দামের ওপর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ শিথিল করা হলে তা ব্যবসায়ী গোষ্ঠীকে বাড়তি মুনাফা করার সুযোগ করে দেবে। এছাড়া, স্বাস্থ্য খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ড্রাগ অ্যাডভাইজরি কমিটির সাথে পরামর্শ না করে বা যথাযথ প্রক্রিয়ার তোয়াক্কা না করে সরাসরি তালিকা বাতিল করা একটি ভুল সিদ্ধান্ত, যা চিকিৎসা ব্যয় আরও বাড়িয়ে তুলবে।
এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, তালিকাটি তৈরির ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়ায় ত্রুটি ছিল এবং যথাযথ পরামর্শক কমিটির অনুমোদন না থাকায় তা বাতিল করা হয়েছে। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর মতে, ভবিষ্যতে আইন ও নিয়ম মেনে নতুন করে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা প্রণয়ন করা হবে। তবে নতুন তালিকা না আসা পর্যন্ত ওষুধ কোম্পানিগুলোর একচেটিয়া প্রভাব এবং অনিয়ন্ত্রিত দামের কারণে সাধারণ মানুষ যে আর্থিক চাপের মুখে পড়বে, তা নিয়ে কোনো কার্যকর সমাধান এখনও স্পষ্ট নয়।