চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে বাংলাদেশে প্রায় ১৫ হাজার শিশু নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা জনমনে তীব্র উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৭০টি শিশু নিখোঁজের জিডি করা হচ্ছে, যা প্রতি ২০ মিনিটে একজনের অন্তর্ধানের সমান। যদিও অনেক শিশু পরবর্তীতে ফিরে আসে, কিন্তু নিখোঁজ হওয়ার প্রকৃত কারণ—অপহরণ, পাচার নাকি স্বেচ্ছায় বাড়ি ছাড়া—তা নিয়ে কোনো সমন্বিত বা নির্ভরযোগ্য জাতীয় ডেটাবেস নেই। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পরিবারগুলো সামাজিক লোকলজ্জার ভয়ে বা সন্তান ফিরে পাওয়ার পর বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানায় না, ফলে এসব জিডি কেবল কাগজের নথিতেই সীমাবদ্ধ থেকে যায়।
বিশেষজ্ঞ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পর্যবেক্ষণ বলছে, শিশু-কিশোরী, বিশেষ করে কিশোরীদের নিখোঁজের পেছনে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার অন্যতম বড় ভূমিকা রাখছে। টিকটক, লাইকি বা টেলিগ্রামের মতো অ্যাপ ব্যবহার করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র কিশোরীদের প্রলোভন দেখিয়ে ফাঁদে ফেলছে। অনেক সময় জনপ্রিয় হওয়ার স্বপ্ন বা বন্ধুত্বের মোহে তারা অচেনা মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে, যা পরবর্তীতে ব্ল্যাকমেইল, যৌন হয়রানি কিংবা বিদেশে পাচারের মতো ভয়াবহ অপরাধের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
সাইবার অপরাধের এই ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবিলায় কেবল পুলিশি তৎপরতা যথেষ্ট নয়। প্রযুক্তিকে নিষিদ্ধ না করে বরং শিশু ও অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে জোর দেওয়া জরুরি। শিশু-কিশোরদের অনলাইন নিরাপত্তা, ডিজিটাল গোপনীয়তা রক্ষা এবং ভার্চুয়াল বন্ধুত্বের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করার পাশাপাশি পরিবার ও রাষ্ট্রের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন। অভিভাবক ও সন্তানদের মধ্যে প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে খোলামেলা আলোচনা এবং মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করতে পারলেই এই ভয়াবহ প্রবণতা রোধ করা সম্ভব।