রোববার (২৬ জুলাই) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্টার বরাবর রাষ্ট্রপক্ষ ১৯ জনকে আসামি করে ফরমাল চার্জ দাখিল করেছে। অভিযোগে সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামসহ অন্যদের নাম রয়েছে বলে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর তদন্ত সংস্থার রিপোর্ট পর্যালোচনা করে এই চার্জশিট প্রস্তুত করা হয়েছে।
মামলায় বর্তমানে সাত জনকে কারাগারে রাখা আছে; তাদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, সহকারী উপপরিদর্শক মোহাম্মদ আলী, নায়েক সোহেল, মিজানুর রহমান, জাকির হোসেন ও কনস্টেবল মাসুদ মিয়া। নিহত শাইখ আসহাবুল ইয়ামিন মিলিটারি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ছিলেন। এ ঘটনার বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রথম অভিযোগ করা হয় ২০২৫ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর; অভিযোগটি দায়ের করেন ইয়ামিনের মামা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মুন কাদির ও তার আইনজীবী সাকিল আহমাদ।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই সাভারে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশ ও স্থানীয় দলের লোকজন হামলা চালিয়ে ইয়ামিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের সাঁজোয়াযানের পাশে নিয়ে এসে দুপুরে বামের বুকে গুলি করে। গুলির ফলে বুকে স্প্লিন্টার ক্ষত হয়েছিল এবং তাকে সাঁজোয়াযানের ওপর ফেলে আন্দোলনকারীদের ভীতি প্রদর্শন করে গাড়িটি পারাপার করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। পরে তাকে রাস্তায় ফেলে হাসপাতালে নেওয়া হলে এনাম মেডিকেল কলেজে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তর এবং পরিবারের উপর মামলা না করার জন্য হুমকি-দমনচেষ্টা করার অভিযোগও করা হয়েছে। সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম এই ঘটনাকে কঠোরভাবে উল্লেখ করে বলেন, ১৮ জুলাই সাভারে একটি এপিসি থেকে গুলি করে একটি ছাত্রকে অর্ধমৃত অবস্থায় ফেলে দেওয়া হয়েছিল, পরে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয় এবং স্থানীয় নেতারা পারিবারিক কবরস্থানে দাফনে বাধা দিয়েছিলেন।