যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব একটি বহুল আলোচিত বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তিতে পৌঁছেছে, যার লক্ষ্য সৌদির জ্বালানি চাহিদা মেটানো ও দেশটিতে পারমাণবিক অবকাঠামো নির্মাণে আমেরিকান প্রযুক্তি ও কোম্পানিগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া। চুক্তিটি কয়েক দশকব্যাপী পরিকল্পনার ধারাবাহিক মনে করা হচ্ছে এবং রিয়াদ নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদনে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহার করে অভ্যন্তরীণ তৈলচাহিদা কমিয়ে আন্তর্জাতিক তেলের রফতানি বাড়াতে চায়। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের লক্ষ্য ছিল প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলো—যেমন চীন ও রাশিয়া—সৌদিতে অতিরিক্ত কৌশলগত প্রভাব বিস্তার থেকে বিরত রাখা।
সবচেয়ে তীব্র বিতর্ক উঠছে সৌদিকে নিজ ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ করার সুযোগ দেওয়া হবে কি না—চুক্তির শর্তাবলী ছাড়াও এ বিষয়ে স্পষ্টতা কম। একটি যৌথ মার্কিন–সৌদি সমীক্ষা দুই বছর চলবে এবং সেই ফলের ওপর নির্ভর করে ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে; চূড়ান্ত অনুমোদন দিতে হতে পারে পরবর্তী মার্কিন সভাপতির। সমালোচকরা বলছেন, এই চুক্তিতে আইএইএ-এর ‘অতিরিক্ত প্রটোকল’ স্তরের কঠোর নজরদারির অনুপস্থিতি এবং ইউএই-এর মত ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ শর্ত এখনও নেই, ফলে অভিজ্ঞ পরমাণু বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ ও আশঙ্কা জাগছে। প্রশাসন বলেছে দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় জ্বালানি ও ব্যবহৃত উপকরণের উপর পর্যবেক্ষণ রাখা হবে যাতে কোনো সামগ্রী অস্ত্র তৈরির কাজে সরবরাহ না হয়।
আরও বড় রাজনৈতিক দিক হলো ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রশ্ন, যা সৌদি আরবের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল; ইসলামিক বিশ্বের মধ্যে সৌদির ধর্মীয় ও নৈতিক অবস্থান ও ২০০২ সালের ‘আরব পিস ইনিশিয়েটিভ’ বিবেচনায় নিয়ে বিষয়টি জটিল। আঞ্চলিক জনমত ও ফিলিস্তিন সমর্থকদের প্রতিক্রিয়া, ইরান-বান্ধব গোষ্ঠীগুলোর উত্তেজনা, এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ঝুঁকি—এসব কারণেই_normalization_ বাস্তবায়ন করলে কঠিন প্রতিক্রিয়া আসতে পারে। কংগ্রেসেও আইনপ্রণেতারা উদ্বেগ জানিয়েছে যে চুক্তিটি সম্ভাব্যভাবে একটি নতুন পারমাণবিক দৌড় উত্তেজিত করতে পারে, তবে বর্তমান আইনগত ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় অঙ্গীকারটি কংগ্রেস দিয়ে বাতিল বা আটকে দেওয়া সহজ হবে না।