October 1, 2026, 4:49 pm
Title :
ট্রাম্পের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পরও কূটনীতির পক্ষে ইরান প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে রাজনৈতিক আনুগত্য নয়, মেধাকে গুরুত্ব দিন: ডা. শফিকুর রহমান যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী জাতিসঙ্ঘ সফর শেষে নিউইয়র্ক থেকে দুবাই পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর হাফেজদের ‘নেক্সাস’ উপহার! নেপথ্যে কারা? পটুয়াখালীতে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের অষ্টম ব্যাচের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত দর্জি থেকে ফ্রিল্যান্সার, প্রশিক্ষণ থেকে উদ্যোক্তা—তরুণদের সাফল্যের অনুপ্রেরণাদায়ী গল্প প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেক সভা চলছে ব্যুরো বাংলাদেশের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, বেতন ৯০ হাজার টাকা শাপলা চত্বর হত্যা মামলায় গ্রেফতার আসামিরা ট্রাইব্যুনালে

স্ত্রীকে কখনো নিজের মেয়ে, আবার কখনো ভাতিজি বলে বিয়ে দিতেন স্বামী

Reporter Name
  • Update Time : Tuesday, September 8, 2026
  • 40 Time View

পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গা থানা এলাকায় অভিনব কায়দায় প্রতারণার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। নিজের স্ত্রীকেই কখনো ভাতিজি এবং কখনো আবার নিজের মেয়ে হিসেবে পরিচয় দিয়ে একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। সম্প্রতি প্রতারণার শিকার এক নববিবাহিত ব্যক্তির সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ওই দম্পতিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই চক্রের মূল লক্ষ্য ছিল সহজ-সরল মানুষকে টার্গেট করে বিয়ের নামে মোটা অংকের অর্থ এবং স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেওয়া।

স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, দেগঙ্গার এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে পাত্রী খুঁজছিলেন এবং এক ঘটকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট তরুণীর সন্ধান পান। পাত্রীর ছবি পছন্দ হওয়ার পর সম্প্রতি একটি মন্দিরে তাদের জমকালো আয়োজনের মাধ্যমেই বিবাহ সম্পন্ন হয়। বিয়ের ওই অনুষ্ঠানে অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেই উপস্থিত থেকে নিজেকে তরুণীর ‘চাচা’ বা অভিভাবক হিসেবে পরিচয় দেন এবং কন্যা সম্প্রদান করেন। এমনকি সে সময় দাবি করা হয়েছিল যে ওই তরুণী তার একমাত্র ভাতিজি এবং তাদের পরিবারে আর কেউ নেই।

তবে বিয়ের মাত্র এক মাস কাটতে না কাটতেই নতুন বরের মনে নানা সন্দেহ দানা বাঁধতে শুরু করে। তিনি নিজের উদ্যোগে খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন যে, যাকে তিনি চাচাশ্বশুর হিসেবে জেনেছিলেন, তিনি আসলে ওই তরুণীর প্রকৃত স্বামী। শুধু তাই নয়, তদন্তে আরও বেরিয়ে আসে যে ওই দম্পতির দুটি সন্তান রয়েছে এবং তাদের ইতোমধ্যে বিয়েও হয়ে গেছে। এই সত্য উদঘাটিত হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়, যার জেরে স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যরা অভিযুক্তদের ডেকে পাঠালেও তারা প্রথমে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন।

ভুক্তভোগী স্বামী কোনো উপায় না পেয়ে শেষ পর্যন্ত স্থানীয় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে মাঠে নামে এবং দ্রুত তদন্ত চালিয়ে অভিযুক্ত দম্পতিকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করে যে, অতীতেও তারা একই কৌশলে বিভিন্ন এলাকার পাত্রপক্ষের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। বিভিন্ন সময়ে স্ত্রীর পরিচয় বদল করে এভাবে একাধিক বিয়ে দিয়ে তারা নগদ অর্থ ও গহনা আত্মসাৎ করেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, লজ্জিত হওয়ার কারণে অতীতে অনেক ভুক্তভোগী পরিবারই আইনগত পদক্ষেপ নেয়নি, যার ফলে এই চক্র দীর্ঘদিন ধরে ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিল। তবে এবার লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে। গ্রেফতারের পর অভিযুক্ত দম্পতিকে যথাযথ নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে বারাসত মহকুমা আদালতে হাজির করা হয়েছে। এই চক্রের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না এবং অতীতে ঠিক কতটি পরিবার তাদের দ্বারা প্রতারিত হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © ajkerdorpon.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com