July 2, 2026, 1:18 am

হরমুজ প্রণালিতে সাবমেরিন মোতায়েন করলো ইরান

Reporter Name
  • Update Time : Sunday, May 10, 2026
  • 36 Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
শত্রু পক্ষের নৌযান মোকাবিলায় হরমুজ প্রণালিতে দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত হালকা সাবমেরিন মোতায়েন করেছে ইরানের নৌবাহিনী। ইরানের বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর নৌবাহিনী এই সাবমেরিনগুলোকে ‘পারস্য উপসাগরের ডলফিন’ বলে উল্লেখ করেছে।

রোববার (১০ মে) ইরানের নৌবাহিনীর কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি এমন মন্তব্য করেছেন বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে আইআরজিসি ঘনিষ্ঠ তাসনিম নিউজ এজেন্সি।

রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি জানান, বিদ্যমান হুমকি, সক্ষমতা ও অপারেশনাল প্রয়োজনের ভিত্তিতে ইরানে তৈরি এসব হালকা সাবমেরিনের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে এবং সেগুলো হরমুজ প্রণালির সমুদ্রতলে মোতায়েন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এসব সাবমেরিন কৌশলগত এই জলপথে দীর্ঘ সময় সমুদ্রতলে অবস্থান করতে সক্ষম এবং একই সঙ্গে শত্রু জাহাজ শনাক্ত ও ধ্বংস করতে পারে।

নৌবাহিনীর এই কমান্ডারের ভাষ্য অনুযায়ী, নৌ কর্মকর্তারা ও সদস্যরা এসব হালকা সাবমেরিনকে সাধারণত ‘পারস্য উপসাগরের ডলফিন’ নামে ডাকেন।

তিনি আরও বলেন, ডেনা ডেস্ট্রয়ার জাহাজের শহিদদের স্মরণে পরিচালিত এক অভিযানের সময় এসব সাবমেরিন হরমুজ প্রণালিতে পানির ওপরে উঠে আসে যাতে ইরানের সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা প্রদর্শন করা যায়।

বিভিন্ন ধরনের কৌশলগত ফরমেশন মহড়া শেষে সাবমেরিনগুলো আবার সমুদ্রের গভীরে ফিরে গিয়ে তাদের নির্ধারিত মিশন চালিয়ে যাচ্ছে বলেও জানান শাহরাম ইরানি।

প্রসঙ্গত, জেনেভা শহরে আলোচনা চলা অবস্থায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথবাহিনী। এতে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশকিছু শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। একই দিনে মিনাব শহরের শারজাহ তায়্যিবাহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মার্কিন টমাহক মিসাইল হামলায় ১৬৮ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়। এই ঘটনাকে যুদ্ধাপরাধ বলে ঘোষণা দিয়েছে ইরান সরকার। এর প্রতিবাদে টানা ৩৯ দিনে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ১০০ দফা হামলা চালায় ইরান।

এরপর ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেন ট্রাম্প। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে সরাসরি বৈঠক করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়া ১৩ এপ্রিল হরমুজে নৌ-অবরোধ আরোপ করা হয়। এরপর আরেক দফা যুদ্ধবিরতির সময় বাড়ান ট্রাম্প।

ইরানের লিগ্যাল মেডিসিন সংস্থার তথ্যমতে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সংঘাতে মোট ৩ হাজার ৩৮০ জন নিহত হন, যার মধ্যে ২ হাজার ৮৭৫ জন পুরুষ এবং ৪৯৬ জন নারী। এছাড়া জরুরি চিকিৎসা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধে ১১৮ জন চিকিৎসাকর্মী আহত হন এবং ২৬ জন নিহত হন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © ajkerdorpon.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com