জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় চাঞ্চল্যকর কিছু ফোনালাপ আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ শুনানির সময় তৎকালীন ডিবি প্রধান হারুন-অর-রশীদের সাথে ওবায়দুল কাদেরের কথোপকথন প্রকাশ পায়, যেখানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছয় সমন্বয়ককে হেফাজতে রাখা ও তাদের খাবারের ছবি প্রকাশ্যে আনা নিয়ে আলোচনা হয়।
ফোনালাপে দেখা যায়, ডিবি হেফাজতে ছয় সমন্বয়কের খাবারের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এবং ওবায়দুল কাদের চরম বিরক্ত হয়েছিলেন। ওবায়দুল কাদের এ নিয়ে হারুনকে ভর্ৎসনা করলে হারুন দাবি করেন যে, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশেই এসব করা হয়েছিল। তবে ওবায়দুল কাদের উল্লেখ করেন যে, এমন পরিস্থিতিতে খোদ প্রধানমন্ত্রীও বিষয়টি নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিলেন এবং দায়ভার হারুনের ওপরই পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
হারুন-অর-রশীদ ফোনালাপে দাবি করেন যে, ডিবি কার্যালয়ে ঘটে যাওয়া প্রতিটি পদক্ষেপ তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপির নির্দেশ মেনেই নেওয়া হয়েছে। তবে ওবায়দুল কাদের তাকে সতর্ক করে বলেন যে, দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে এখন আর কেউ তাদের দায় নিচ্ছে না। কথোপকথনের এক পর্যায়ে হারুন নিজের বদলি হওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলে ওবায়দুল কাদের তাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে কথা বলার আশ্বাস দেন।