January 15, 2026, 7:16 pm

২০২৫ সালে মৃত্যুদণ্ডে সৌদি আরবের নতুন রেকর্ড, ৩৫৬ জনের ফাঁসি কার্যকর

Reporter Name
  • Update Time : Saturday, January 3, 2026
  • 27 Time View

২০২৫ সালে সৌদি আরবে মোট ৩৫৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। এরমধ্যে অধিকাংশ দণ্ড কার্যকর করা হয়েছে মাদক মামলায়। এক হিসাব অনুযায়ী জানা গেছে এটি দেশটির ইতিহাসে এক বছরে সর্বোচ্চ। এর আগের বছর ২০২৪ সালেও ৩৩৮ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল, ফলে টানা দ্বিতীয় বছর নতুন রেকর্ড গড়ল দেশটি।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রিয়াদের শুরু করা ‘মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’-এর ফলেই এই মৃত্যুদণ্ডের সংখ্যা হঠাৎ বেড়েছে। অনেক অভিযুক্তকে কয়েক বছর আগে গ্রেপ্তার করা হলেও দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০২৫ সালে তাদের দণ্ড কার্যকর হয়েছে।

সরকারি তথ্যের বরাতে এএফপি জানায়, শুধু ২০২৫ সালেই মাদক–সম্পর্কিত মামলায় ২৪৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বার্লিনভিত্তিক ইউরোপিয়ান সৌদি অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটসও নিশ্চিত করেছে যে, ২০২৫ সালে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তের সংখ্যা ৩৫৬। সংস্থাটি আরও জানায়, এই প্রথম কোনো বছরে সৌদি নাগরিকদের তুলনায় বিদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ডের সংখ্যা বেশি ছিল।

প্রায় তিন বছর স্থগিত থাকার পর ২০২২ সালের শেষ দিকে মাদক মামলায় মৃত্যুদণ্ড আবার চালু করে সৌদি আরব। আরব বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটি একই সঙ্গে ক্যাপটাগন নামের অবৈধ উত্তেজক বড় বাজারগুলোর একটি। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এই মাদকটি সিরিয়ার সাবেক শাসক বাশার আল-আসাদের আমলে দেশটির সবচেয়ে বড় রপ্তানি পণ্যে পরিণত হয়েছিল। আসাদ ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ক্ষমতাচ্যুত হন।

মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান শুরুর পর থেকে সৌদি আরবে মহাসড়ক ও সীমান্তে পুলিশি চেকপোস্ট বাড়ানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ সময় কোটি কোটি মাদক বড়ি জব্দ করা হয়েছে এবং বহু পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, এই অভিযানের বড় চাপ পড়ছে বিদেশিদের ওপর।

মৃত্যুদণ্ডের ব্যাপক ব্যবহার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে সৌদি আরব। অধিকারকর্মীদের মতে, কঠোর শাস্তির এই নীতি দেশটির আধুনিক ও উন্মুক্ত ভাবমূর্তি গড়ার প্রচেষ্টার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বিশেষ করে ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের ‘ভিশন ২০৩০’ সংস্কার কর্মসূচির সঙ্গে এর বিরোধিতা রয়েছে বলে তারা মনে করেন।

তবে সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, জনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য মৃত্যুদণ্ড প্রয়োজন এবং সব ধরনের আপিলের সুযোগ শেষ হওয়ার পরই এই শাস্তি কার্যকর করা হয়।

উল্লেখ্য, মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ১৯৯০ সাল থেকে সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ডের তথ্য নথিভুক্ত করে আসছে। এর আগের সময়ের নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান পাওয়া কঠিন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © ajkerdorpon.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com