খালেদা জিয়ার মৃত্যুর কারণে বিএনপির চেয়ারম্যান পদটি শূন্য হয়ে গেছে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানই বিএনপির চেয়ারম্যান হচ্ছেন। তবে কবে, কখন এবং কোন প্রক্রিয়ায় তাকে চেয়ারম্যান পদে অধিষ্ঠিত করা হবে, সে বিষয়ে এখনো দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত হয়নি।
বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর দলের ভেতরে সবচেয়ে সংবেদনশীল প্রশ্ন হলো নির্বাচনী প্রচারণায় কার ছবি ব্যবহার করা হবে।
নির্বাচনী ব্যানার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড, প্রচারপত্র এবং ডিজিটাল পোস্টারে দলের চেয়ারপারসনের ছবি ছাপানো আইন ও নীতিমালা অনুযায়ী হওয়া প্রয়োজন। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর খালেদা জিয়া ৩০ ডিসেম্বর মারা গেছেন। এরপর দলের প্রার্থীরা ইতিমধ্যেই নির্বাচনী প্রচারণার জন্য ব্যানার ও ডিজিটাল পোস্টার তৈরি করেছেন, যেখানে খালেদা জিয়ার ছবি রয়েছে। তার মৃত্যুতে প্রচারণার পরিকল্পনা কিছুটা পরিবর্তন করতে হচ্ছে।
সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ৭(চ) অনুযায়ী, ‘কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কর্তৃক মনোনীত হলে সে ক্ষেত্রে তিনি শুধু নিজের বর্তমান দলীয় প্রধানের ছবি ব্যানার, লিফলেট বা হ্যান্ড বিল ও ফেস্টুনে ছাপাতে পারবেন। ছবি পোর্ট্রেট আকারে হতে হবে এবং তা কোনো অনুষ্ঠান ও জনসভায় নেতৃত্বদান বা প্রার্থনারত অবস্থায় বা ভঙ্গিমায় ছাপানো যাবে না।’
বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্বয়ংক্রিয়ভাবে চেয়ারম্যানের দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছেন। যদিও দলের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, আবার এই পদ ব্যবহারও করা হচ্ছে না। এ অবস্থায় দলীয় প্রার্থীর প্রচারের ব্যানার-ফেস্টুনে কার ছবি ব্যবহার করা যাবে, সেটা এখনো মীমাংসিত হয়নি।
বিএনপির নীতিনির্ধারণী নেতা বলছেন, খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর তারেক রহমান স্বয়ংক্রিয়ভাবে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা ও কৌশলগত কারণে এই পদ নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখন করা হয়নি। দলের নেতা ও প্রার্থীদের প্রচারণায় কোন ছবি ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।