ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ পেলে বাংলাদেশে শরিয়াহ আইন বাস্তবায়ন করা হবে না বলে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের নেতাদের আশ্বস্ত করেছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর ন্যাশনাল খ্রিষ্টান ফেলোশিপ অব বাংলাদেশের জেনারেল সেক্রেটারি মার্থা দাস এ কথা বলেছেন।
বুধবার রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা শফিকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহছানুল মাহবুব যুবায়েরের পাশে দাঁড়িয়ে মার্থা দাস বলেন, ‘জামায়াত আমির জাতির উদ্দেশে যে আশ্বাসগুলো দিয়েছেন, তা আবার বলতে চাই। যদি মহান সৃষ্টিকর্তা জামায়াতকে এই দেশ পরিচালনার সুযোগ দেন, তাহলে বাংলাদেশ শরিয়াহ করবেন না।’
মার্থা দাস বলেন, জামায়াত আমির বলেছেন, ‘নিজেদের সংখ্যালঘু ভাববেন না। আপনাদের সন্তানদের মতো আগলে রাখব।’ এটা খুব ভালো লেগেছে। এটাই যেন থাকে, যদি জামায়াত দেশ পরিচালনার সুযোগ পায়।
বাংলাদেশ ইভানজেলিক্যাল রিভাইভাল চার্চের চেয়ারম্যান রেভারেন্ড বনি বাড়ৈ বলেন, আমরা আজ এখানে এ দেশের নাগরিক হিসেবে এসেছিলাম। আমি খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী হওয়া সত্ত্বেও জামায়াত আমিরের কাছে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার বিষয়ে জানতে চেয়েছি। তিনি আমাদের আশ্বস্ত করে বলেছে, ‘একটি বাগানে যেমন সব রকমের ফুল না থাকলে সৌন্দর্য ফোটে না, ঠিক তেমনি একটি দেশে সব ধর্মের নাগরিক না থাকলে পূর্ণতা আসে না।’ আমরা সত্যিই কৃতজ্ঞ।
যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষাবিদ ড. চ্যাপলিন গর্ডন ক্লিংগেনশমিট বলেন, একজন সাধারণ মার্কিন হিসেবে এসেছিলেন জামায়াতের আমিরের সঙ্গে সাক্ষাতে। আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি নিয়ে কথা হয়েছে। খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সুরক্ষা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে কথা হয়েছে। জামায়াত আমির নিশ্চিত করেছেন, বাংলাদেশ খ্রিষ্টানদের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে, তা অব্যাহত থাকবে। কোনো বৈষম্যমূলক আইন করবে না জামায়াত। যদি ক্ষমতায় নাও আসে, জামায়াত খ্রিষ্টান এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সুরক্ষায় কাজ করবে। জামায়াত ক্ষমতায় যেতে পারলে, সম্ভবত খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি থাকবে সরকারে।
জামায়াতের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ধর্মীয় সম্প্রীতি, সংখ্যালঘুদের অধিকার, পারস্পরিক সহাবস্থান ও সামাজিক শান্তি বজায় রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। শফিকুর রহমান বৈঠকে বলেন, বাংলাদেশ একটি বহু ধর্মীয় ও বহু সংস্কৃতির দেশ। এ দেশের সব নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। জামায়াত সব সময় ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।