দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গনের জনপ্রিয় জুটি বিজয় দেবরাকোন্ডা ও রাশমিকা মান্দানা জীবনের নতুন অধ্যায়ে পা রাখতে যাচ্ছেন। দুই তারকা ২৬ ফেব্রুয়ারি রাজস্থানের ঐতিহাসিক শহর উদয়পুরে সাত পাকে বাঁধা পড়বেন এই দুই তারকা। বিয়েকে ঘিরে ইতোমধ্যে ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছে।
এই বিশেষ মুহূর্তে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাঠানো বার্তায় তিনি দুই পরিবারকে অভিনন্দন জানান এবং নবদম্পতির জন্য শুভকামনা ও আশীর্বাদ পাঠান। বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, এই বিয়ে তাদের জীবনে একটি নতুন ও সুন্দর সূচনা হয়ে উঠুক। ভালোবাসা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও দায়িত্ববোধের মধ্য দিয়ে তারা যেন আগামীর পথচলা এগিয়ে নেন এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি। তারকা জুটির জনসংযোগ বিভাগ থেকে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছাবার্তা প্রকাশ করা হয়েছে। এতে ভক্তদের মধ্যে বিয়ের আমেজ আরও বেড়ে গেছে।
বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার আগে গায়ে হলুদের আয়োজন ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা ছবিতে দেখা গেছে খোলা আকাশের নিচে সাজানো মঞ্চ। গোলাকার একটি পরিসর, চারপাশে কাঠের প্যানেল এবং মেঝেজুড়ে গোলাপের পাপড়ি সব মিলিয়ে ছিল শান্ত ও নান্দনিক পরিবেশ।
মঞ্চের মাঝখানে রাখা ছিল দুটি ছোট পিঁড়ি, যেখানে বর-কনে আচার অনুষ্ঠানে বসবেন। চারদিকে ঝুড়িভর্তি হলুদ ও কমলা গাঁদা ফুলের পাপড়ি ছড়িয়ে ছিল, যা পুরো পরিবেশকে উৎসবমুখর করে তুলেছে। ফুলের নকশায় তৈরি নামফলকে কনের ডাকনাম ও বরের নাম আলাদা করে লেখা ছিল যা অনুষ্ঠানে ব্যক্তিগত আবেগের মাত্রা যোগ করেছে।
রাশমিকার শেয়ার করা আরেক ঝলকে দেখা গেছে সোনালি সূর্যাস্তের আলোয় সাজানো একটি নান্দনিক দৃশ্য, যেখানে ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মিশেল স্পষ্ট। হলুদ রঙের প্রাধান্য, ফুলেল সাজ এবং উষ্ণ আলো গায়ে হলুদের আবহকে আরও প্রাণবন্ত করেছে।
এই বহুল আলোচিত বিয়েকে ঘিরে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা। তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে, যাতে অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি হায়দরাবাদ থেকে বিশেষ নিরাপত্তা দল উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। আয়োজক সূত্র জানিয়েছে, অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকা সীমিত রাখা হয়েছে। ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজন ও চলচ্চিত্র জগতের নিকটজনদের উপস্থিতিতেই মূল আয়োজন সম্পন্ন হবে।