March 12, 2026, 3:54 am
Title :
প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সঙ্গে ডেনমার্ক ও জার্মান রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ ৯ মাসের মধ্যে শাহজালালের থার্ড টার্মিনাল চালু প্রথম সংসদ অধিবেশন: প্ল্যাকার্ড হাতে সংসদের প্রবেশপথে থাকবেন এনসিপির প্রার্থীরা যে শর্তে যুদ্ধ থামানো যেতে পারে, জানালেন ইরানের প্রেসিডেন্ট ইরান যুদ্ধের অবসানে যেসব উপায় দেখছে যুক্তরাষ্ট্র ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে হাইকোর্টে জামায়াত সেক্রেটারিসহ ৪ প্রার্থীর মামলা কারচুপির অভিযোগে হাইকোর্টে নাহিদ ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা রাষ্ট্রপতি ভাষণ দিলে ওয়াক আউট করবে জামায়াত জোট হরমুজ প্রণালীতে হামলার শিকার থাই জাহাজটির গন্তব্য ছিল ভারত ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা শেষ করে দেওয়ার যুক্তরাষ্ট্রের দাবি নাকচ তেহরানের

রাষ্ট্রপতি ভাষণ দিলে ওয়াক আউট করবে জামায়াত জোট

Reporter Name
  • Update Time : Thursday, March 12, 2026
  • 25 Time View

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হচ্ছে আজ বেলা ১১টায়। প্রথম বৈঠকেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে। এর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে নতুন সংসদের কার্যক্রম। প্রথম অধিবেশনে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা অধ্যাদেশগুলো সংসদে উত্থাপন করা হবে। সেগুলো অনুমোদন, সংশোধন বা বাতিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে সংসদ। পুরানো সংবিধান অনুযায়ী, নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে এবং বছরের প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দেন রাষ্ট্রপতি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তৈরি হওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি নিয়ে আজ সংসদে থাকবে জুলাইকে ধারণ করা সংসদ সদস্যরা।

জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে সংস্কারের দাবি-দাওয়া ছিল অনেক। স্বৈরতন্ত্র ঠেকানো, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন দাবিতে গঠিত হয় সংস্কার কমিশন। খাতওয়ারি আমূল পরিবর্তনের সুপারিশ করেন অভিজ্ঞরা। সেসব সুপারিশ তথা সংস্কার প্রস্তাবের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে বর্তমান সংসদের হাত ধরে। ফলে, নতুন সংসদের গুরুত্ব অনেক বেশি।
এবারের সংসদে প্রধান উত্তাপের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘জুলাই সনদ’ ও ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ ইস্যু। জুলাই আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে তৈরি হওয়া এই সনদের ভিত্তিতেই নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত ও নির্বাচন হয়েছে। বিরোধী দল জামায়াত ও এনসিপির সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে পৃথক শপথ নিলেও বিএনপির সদস্যরা কেবল সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন।

ইতোমধ্যে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও রাষ্ট্রপতির ভাষণদানকে কেন্দ্র করে প্রথম দিনই সংসদ উত্তপ্ত করার ইঙ্গিত দিয়েছে বিরোধী দল। এবার ডেপুটি স্পিকারের পদটির জন্য বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীকে প্রস্তাব দিয়েছিল বিএনপি। তবে সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী জানিয়েছে, ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত সংসদের ডেপুটি স্পিকার পদ গ্রহণ করবে না দলটি।

জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির নেতারা বলছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নসহ রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে সরকারি দল বিএনপির ভূমিকার ওপরই বিরোধী দলের আচরণ নির্ভর করছে। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পর তাদের শপথ পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। এরপর রাষ্ট্রপতির উদ্বোধনী ভাষণের মধ্য দিয়ে শুরু হবে সংসদীয় কার্যক্রম। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির এই ভাষণ নিয়ে সংসদে আপত্তি তুলে ওয়াক আউটের ঘোষণা দেবে জামায়াত, এনসিপিসহ বিরোধী জোটের শরিকরা।

জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির একাধিক সংসদ সদস্যের কাছে প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির উপস্থিতি নিয়ে জানতে চাইলে তারা জানান, কোনো ফ্যাসিববাদী কাঠামোতে আমরা যাব না। এই রাষ্ট্রপতিকে আমরা কখনোই স্বীকৃতি দেব না। আমরা দেখতে চাই, এখনো বিশ^াস করতে চাই সব সংসদ সদস্যরা রাষ্ট্রপতির ওপর অনস্থা প্রকাশ করে ওয়াক আউট করবে। এই ফ্যাসিবাদ ও গণহত্যার সঙ্গে যুক্ত কারও হাতে স্পিকার এবং ডেপুটি স্পিকার শপথ নিতে পারে না। এটা জুলাইয়ের রক্তের সঙ্গে সরাসরি গাদ্দারি করা হবে।

জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এ বিষয়ে জনকণ্ঠকে বলেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতির সংসদে ভাষণ দেওয়ার কোনো অধিকার নেই। তিনি স্বৈরাচারের দোসর। বিএনপি কেন যে তাকে দিয়ে ভাষণ দেওয়াচ্ছে, তা তাদের কাছে বোধগম্য নয়। বিএনপি যদি জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতি দেওয়া জুলাই সনদ মেনে সংস্কারের পথে হাঁটে, তবে তারা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবেন। তা না হলে সংসদ ও রাজপথ- উভয় জায়গাতেই তীব্র প্রতিবাদ জানানো হবে।
একইভাবে এনসিপির সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন জানান, সংসদের প্রথম দিনেই সরকারি দলের বক্তব্যে তাদের অবস্থান স্পষ্ট হবে। তার মতে, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে সংবিধানের দোহাই দিলে খোদ নির্বাচনের বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন উঠতে পারে।

নতুন এই সংসদের সামনে বিশাল আইনি চ্যালেঞ্জও রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশকে প্রথম অধিবেশন থেকে পরবর্তী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে আইনে রূপান্তর করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তা না হলে অধ্যাদেশগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। সব মিলিয়ে ১৪০০-এর অধিক ছাত্রজনতার রক্তের বিনিময়ে পাওয়া জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং নতুন বাংলাদেশ গঠনের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা এই সংসদে কতটা প্রতিফলিত হয়, তা দেখার অপেক্ষায় আছে রাজনৈতিক মহল।
জামায়াত ও এনসিপির নেতারা মনে করছেন, গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে নতুন সরকার গঠন হয়েছে, তারা যদি জুলাইকে অস্বীকার করে, তাহলে এর পরিণতি হবে ভয়াবহ। বিরোধী দল মনে করছে, সরকার যদি জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে সাধারণ ছাত্র-জনতাকে নিয়ে আবারও মাঠে নামবে তারা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © ajkerdorpon.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com