March 27, 2026, 6:54 pm

ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় আরও ১০ দিন হামলা স্থগিত করলেন ট্রাম্প

Reporter Name
  • Update Time : Friday, March 27, 2026
  • 3 Time View

ইরানের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে সম্ভাব্য মার্কিন হামলার সময়সীমা আরও ১০ দিন স্থগিত করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধ পরিস্থিতির চরম উত্তেজনার মধ্যেই হঠাৎ ওয়াশিংটনের এই কৌশলগত পরিবর্তন মধ্যপ্রাচ্য সংকটে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। হামলা স্থগিতের পেছনে তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতির দাবি তুলেছেন ট্রাম্প, যদিও ইরান পক্ষ থেকে এমন কোনো আলোচনার খবর নাকচ করে দেওয়া হয়েছে।

সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত ইরানি বিদ্যুৎ গ্রিডে হামলা চালানো হবে না। তিনি দাবি করেন, আলোচনার পরিবেশ তৈরি হওয়ায় সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তের ফলে একদিকে যেমন সংঘাত প্রশমনের ক্ষীণ আশা দেখা দিয়েছে, অন্যদিকে যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা।

এর আগে গত রোববার ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে ইরানের প্রধান বিদ্যুৎ স্থাপনাগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। তবে সোমবার তিনি জানান, ‘ফলপ্রসূ আলোচনা’র প্রেক্ষিতে সেই সময়সীমা পাঁচ দিন বাড়ানো হয়েছে। বৃহস্পতিবারের ঘোষণাটি নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো হামলার তারিখ পেছানো হলো।

যদিও ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি- ইরান সমঝোতার জন্য ‘অনুনয়’ করছে, তবে তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে কোনো ধরনের দ্বিপাক্ষিক আলোচনা চলছে না। উল্টো ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, তাদের বেসামরিক বা জ্বালানি অবকাঠামোয় আঘাত করা হলে ওয়াশিংটন ও ইসরায়েলকে কঠোর জবাব দেওয়া হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি গ্রিডের মতো বেসামরিক স্থাপনায় হামলা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী, এ ধরনের পদক্ষেপ ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে গণ্য হতে পারে। মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইতিমধ্যেই ট্রাম্পের এই পরিকল্পনাকে ‘যুদ্ধাপরাধের হুমকি’ বলে অভিহিত করেছে। ইতিপূর্বে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার অনুরূপ হামলার প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করার নজির রয়েছে।

এদিকে হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থার কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা বাড়ছে। বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হলেও বর্তমানে নিরাপত্তার অভাবে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ। ট্রাম্প তাঁর মিত্র দেশ ও ন্যাটোকে এই সমুদ্রপথ সচল করতে সহায়তার আহ্বান জানালেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো সাড়া মেলেনি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৯৩৭ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৩ জন মার্কিন সেনাও রয়েছেন। একদিকে স্থল অভিযানের গুঞ্জন, অন্যদিকে কূটনৈতিক রশি টানাটানি—সব মিলিয়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংকট এখন এক জটিল মোড়ে দাঁড়িয়ে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © ajkerdorpon.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com