July 3, 2026, 9:15 pm
Title :
চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের আলোচনা-প্রস্তাব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ভারত: জয়সওয়াল বাংলা কিউআর কোডে দুই দিনে ২২ কোটি টাকার লেনদেন ইরানে গিয়ে খামেনিকে শ্রদ্ধা জানালেন জামায়াতের নায়েবে আমির-পাটওয়ারী-হানজালা অবশেষে খামেনিকে হত্যার নিন্দা জানাল বাংলাদেশ অনেক দিন পর দেশে মুক্ত পরিবেশে কথা বলার সুযোগ তৈরি হয়েছে: রিজভী খামেনির জানাজায় হামলা হলে চরম প্রতিশোধ, হুঁশিয়ারি তেহরানের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস নয়: জামায়াত আমির স্কুলে চলছে পরীক্ষা, মদ্যপানের পর মাতলামিতে ব্যস্ত প্রধান শিক্ষক! পে-স্কেল নিয়ে নানা জল্পনা, বাস্তবায়নে এখনো অনিশ্চয়তা খামেনির শেষ বিদায়ে অংশ নেয়নি সৌদি আরব

পে-স্কেল নিয়ে নানা জল্পনা, বাস্তবায়নে এখনো অনিশ্চয়তা

Reporter Name
  • Update Time : Friday, July 3, 2026
  • 19 Time View

নিউজ ডেস্ক:
নতুন অর্থবছর থেকে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন পে-স্কেল কার্যকরের ঘোষণা দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত এর গেজেট প্রকাশ হয়নি। ফলে বেতন ঠিক কত বাড়বে বা গ্রেডগুলোতে কী ধরনের পরিবর্তন আসছে, তা নিয়ে চাকরিজীবীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক জল্পনা। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত কমিশনের হুবহু সুপারিশ কার্যকর করা হবে, নাকি নতুন করে কোনো সংশোধিত কাঠামো গ্রহণ করা হবে—সে বিষয়েও এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। তবে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনা করে নতুন এই বেতন কাঠামো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।

বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে। ওই কমিটি ইতোমধ্যে নতুন বেতন কাঠামোর একটি খসড়া রূপরেখা প্রস্তুত করেছে, যার ওপর ভিত্তি করে বর্তমানে চূড়ান্ত গেজেট প্রণয়নের কাজ চলছে। সরকার বর্তমানে বিশ্লেষণ করে দেখছে যে, কত ধাপে এই বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করা যায় এবং এর ফলে সৃষ্ট মূল্যস্ফীতির প্রভাব কীভাবে সামাল দেওয়া সম্ভব হবে।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানিয়েছেন, নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ও দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সরকার এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। তাঁর মতে, নতুন পে-স্কেল একসঙ্গে কার্যকর না করে কয়েকটি ধাপে করা হবে, যার প্রথম ধাপে মূল বেতন বা বেসিক বাড়ানো হবে। তবে গেজেট ঠিক কবে প্রকাশ হবে বা কোন গ্রেডে কত টাকা বাড়ছে, সে বিষয়ে তিনি সুস্পষ্ট কোনো মন্তব্য করেননি। শুধু জানিয়েছেন, সরকারের পর্যালোচনা ও রাজনৈতিক দিকনির্দেশনার আলোকেই এটি বাস্তবায়িত হবে।

এর আগে, অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে তাঁর বাজেট বক্তৃতায় জানিয়েছিলেন, বিগত প্রায় ১১ বছর ধরে সরকারি কর্মচারীরা একই কাঠামোতে বেতন পাচ্ছেন। এই দীর্ঘ সময়ে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়েছে। তাই মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় ১ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন বেতন কাঠামো পর্যায়ক্রমে কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, নতুন অর্থবছরের শুরু থেকেই এটি কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়ার কারণে বাস্তবায়নে কিছুটা সময় লাগতে পারে। তবে চলতি মাসের মাঝামাঝি বা শেষ নাগাদ গেজেট প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আরও জানান, গেজেট প্রকাশে বিলম্ব হলেও বকেয়াসহ বেতন-ভাতা পরিশোধের বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।

উল্লেখ্য, দেশে সর্বশেষ জাতীয় বেতন স্কেল ঘোষণা করা হয়েছিল ২০১৫ সালে। এরপর থেকে প্রতি বছর কেবল ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট যুক্ত হলেও পূর্ণাঙ্গ কোনো পে-স্কেল দেওয়া হয়নি। এই দীর্ঘ অচলাবস্থা কাটাতে সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন ‘জাতীয় বেতন কমিশন, ২০২৫’ গত ২২ জানুয়ারি সরকারের কাছে তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। ওই প্রতিবেদনে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়।

কমিশনের প্রস্তাবনায় সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার থেকে বৃদ্ধি করে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি, বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশে উন্নীত করা এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের যাতায়াত ভাতায় বড় ধরনের সংস্কারের সুপারিশ করা হয়।

কমিশন প্রধান জাকির আহমেদ খান সে সময় জানিয়েছিলেন, গত এক দশকের জাতীয় ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সূচকের পরিবর্তনের ভিত্তিতেই এই সুপারিশমালা তৈরি করা হয়েছে। তবে এই বিশাল প্রস্তাব পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে, যা জাতীয় বাজেটের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে অর্থনীতিবিদ ও অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তারা মনে করছেন, দীর্ঘ সময় পর সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামোয় পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি। তবে সরকারের বর্তমান অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর এর প্রভাব বিবেচনায় রেখেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সমীচীন হবে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © ajkerdorpon.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com