নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ ফাইনালের শেষ সিগনালে মাঠ ছাড়তে দেখা গিয়েছিল এক আবেগঘন দৃশ্য। স্পেনের বিরুদ্ধে ১-০ গোলে হেরে খেলার পর লিওনেল মেসির চোখ ভেজে উঠল; আর্জেন্টিনার জার্সিতে ম্যাচশেষে কাঁদা যেমন দৃষ্টান্ত ছিল, এই বার সেই বেদনায় ছিল বিদায় ও অপূর্ণতার ছোঁয়া—যদি এটিই মেসির শেষ বিশ্বকাপ হয়।
পুরো টুর্নামেন্টে ৩৯ বছর বয়সী মেসি আবারও দলের দুই ডগার হয়ে আবির্ভূত হয়েছেন—আটটি গোল করে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলেছেন, গ্রুপে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেছিলেন এবং নকআউটে অনুপ্রেরণার দেখিয়েছেন। তবু ফাইনালে তিনি কার্যত নিষ্ক্রিয় ছিলেন; ১২০ মিনিটে মাত্র ৫৪ বার বলের স্পর্শ, ম্যাচে মাত্র একটি শট (১১৭তম মিনিটে) এবং সতীর্থদের জন্য কোনো 클িয়ার সুযোগ তৈরি করতে না পারা—এসবই স্পেনের শৃঙ্খলাবদ্ধ ও বলকেন্দ্রিক ফুটবলের সামনে পড়ে যায়। লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল বল নিয়ন্ত্রণ করে খেলে এবং তাদের অপরাজিত রেকর্ড টানা ৩৮ ম্যাচে পৌঁছিয়েছে, তা তাদের বিশ্বকাপ জয়ের সঙ্গে নতুন সম্মানও এনে দিয়েছে। ফাইনালের পর টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের গোল্ডেন বলটা রদ্রির হাতে উঠলেও গ্যালারিতে দর্শকরা বারবার ‘‘মেসি’’ ধ্বনি তুলছিলেন।
একটি খারাপ ফাইনাল মেসির আন্তর্জাতিক কীর্তিকে মুছে দিতে পারে না। আর্জেন্টিনার হয়ে তিনি ২০৭ ম্যাচে ১২৫ গোল ও ৬৮টি অ্যাসিস্টের রেকর্ড গড়েছেন; বিশ্বকাপে মোট ৩৪ ম্যাচে ২১ গোল ও ১২টি অ্যাসিস্ট করেছেন—গোল সংখ্যায় এমবাপের ২২টির পেছনে থাকলেও অনারের দিক থেকে মেসি অসামান্য। ২০১৬ সালের ছোটখাটো অবসরের সিদ্ধান্ত বদলে ফিরে এসে তিনি ২০২১ সালের কোপা আমেরিকা, ২০২২ সালের ফাইনালিসিমা ও ২০২২ বিশ্বকাপ জয়ের বড় ভূমিকা রেখেছিলেন এবং ২০২৬ এ আবারো ফাইনালে নেতৃত্ব দিয়েছেন। বার্সেলোনায় দীর্ঘ ১৭ বছরের ক্যারিয়ারে সাথে ১০ লা লিগা, ৪ চ্যাম্পিয়নস লিগসহ বহু ট্রফি ক্লাব পর্যায়ে জয় করেছেন, পরে পিএসজি ও ইন্টার মিয়ামিতেও সাফল্য পেয়েছেন। ব্যালন ডি’অরের রেকর্ড ৮টি সহ মোট ব্যক্তিগত ও ক্লাব সম্মান মিলিয়ে প্রায় ৪৭ (কিন্তু মতান্তরে ৪৮) শিরোপা জয়—এই ধারাবাহিকতা, সৃজনশীলতা ও প্রভাবকে দেখে অনেকেই এখনও মেসিকেই সর্বকালের সেরা ফুটবলারের মর্যাদা দেন।