২০০৩ সালের পর প্রথমবার ২০২৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলছে বাংলাদেশ — ২৩ বছর পর ঐতিহাসিক সফরে। ২১ বছর ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে থাকা মুশফিকুর রহিমও এবারই প্রথম অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলতে যাচ্ছেন। কিন্তু সিরিজ শুরুর আগেই দলের সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ারের একটিকে তারা নিজেই হারিয়ে ফেলেছে: পেসার নাহিদ রানাকে চোটের কারণে পুরো সিরিজ থেকে বাদ দিতে হয়েছে। পাশাপাশি দলের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটার লিটন কুমার দাস প্রথম টেস্টে নেই এবং দ্বিতীয় টেস্টেও তার খেলার সম্ভাবনা পুনর্বাসন ও ফিটনেসের ওপর নির্ভর করছে; একই অনিশ্চয়তা রয়েছে শরিফুল ইসলামের ক্ষেত্রেও।
জিম্বাবুয়ে সফরে নাহিদ ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজে খেলা শুরু করেছিলেন; দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচেই তিনি চোট পেয়েছিলেন। টিম ম্যানেজমেন্টের এক সদস্য জাগো নিউজকে স্বীকার করেছেন যে নাহিদকে রেখেছিল তারা সিরিজ হারার পরের প্যানিক থেকে — কাজেই এটি ওয়ার্কলোড বা ব্যবহারের কৌশল ছিল না। তাঁর যুক্তি ছিল, নাহিদ টেস্ট খেলেননি, ওয়ানডেতে বিশ্রামে ছিলেন, তাই ম্যাচ-টাইম দেয়া হয়েছিল; কিন্তু তিনি নিজের মতেই মেনে নিয়েছেন যে জিম্বাবুয়ে হার আর অস্থিরতা তাদের সিদ্ধান্তে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা ও সমর্থকেরা প্রশ্ন তুলছেন: বড় প্রতিযোগিতার আগে কেন তরুণ পেসারকে ছোট টুর্নামেন্টে ঝুঁকিতে নেওয়া হলো? বাংলাদেশ ক্রিকেটে দীর্ঘমেয়াদি ধারণার বদলে হঠাৎ সিদ্ধান্ত নেয়ার প্রবণতা ও অতিরিক্ত উদ্বেগে নেয়া পদক্ষেপগুলো বারবার ক্ষতি করেছে — বিশেষ করে পেস বোলাদের ক্ষেত্রে, যাদেরকে দীর্ঘমেয়াদি ‘বিনিয়োগ’ হিসেবে দেখা হয়। যদি সঠিক পরিকল্পনা না মেনে পুনরাবৃত্তি চলতে থাকে, ভবিষ্যতে আরও অনেক মেধাবী বোলার একই ঝুঁকিতে পড়তে পারে।