গত কয়েক দিনে দেশে গ্যাস সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে, ফলে শিল্প-কারখানায় উৎপাদন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনুমোদিত লোড অনুযায়ী গ্যাসের চাপ না থাকায় অনেক প্ল্যান্টে মেশিন চালানো যাচ্ছে না; কোথাও উৎপাদন নাটকীয়ভাবে কমে এক-চতুর্থাংশে নেমে এসেছে এবং অনেক স্থানে লাইন বা মেশিন দীর্ঘ সময় বন্ধ রাখতে হচ্ছে। মালিকরা বলছেন, উৎপাদন হ্রাস হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মান নষ্ট হচ্ছে এবং আর্থিক ক্ষতিও বাড়ছে, তবু বাস্তবে সংকট সমাধানে কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যায়নি।
সরকারি ব্যাখ্যা অনুযায়ী সমস্যার মূল কারণ একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ)-র কারিগরি ত্রুটি; এতে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে এবং বিভিন্ন শিল্পকৌশল, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সিএনজি স্টেশন প্রভাবিত হয়েছে। তিতাস বর্তমানে প্রায় ১২০০ মিলিয়ন ঘনফুট পাচ্ছে, চাহিদা প্রায় ১৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট। আগে এফএসআরইউ ঠিক থাকলে ১৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট পর্যন্ত গ্যাস পাওয়া যেত; এর মধ্যে প্রায় ৪০০ মিলিয়ন বিদ্যুৎ ও সার উৎপাদনে ব্যবহার হওয়ায় অন্যান্য সেক্টরের জন্য প্রাপ্যতা ১৩০০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমেছে—যেখানে ন্যূনতম দরকার ছিল ১৪০০, ফলে প্রায় ২০০–২৫০ মিলিয়ন ঘনফুটের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, দেশের মাটির নিচ থেকে এগুলো বাড়ানোর সুযোগ সীমিত; বর্তমানে ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে এবং শুধুমাত্র দুটি এফএসআরইউ থাকায় রাতারাতি সংকট কাটানো সম্ভব নয়। রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানির কর্মকর্তারা এফএসআরইউ মেরামতের সময়সীমা এখনও নিশ্চিত করতে পারছেন না।
শিল্পপ্রতিনিধিরা জানান, মেশিন চালাতে না পারায় উৎপাদনশীলতা ও রপ্তানি অর্ডার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে—নারায়ণগঞ্জের মেঘনা সুগার রিফাইনারির জিএম কামরুল হাসান বলছেন কখনও কখনও তারা কেবল চারভাগের একভাগ উৎপাদন করতে পারছেন এবং প্ল্যান্ট বন্ধও হয়ে যাচ্ছে। বিসিসিসিআই নেতা খোরশেদ আলমের মতে নিয়মিত অর্ডার, ব্যাংক পেমেন্ট ও কর্মীদের বেতনের ওপর এ সংকটের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। সাধারণ গ্রাহকরাও রান্না, সিএনজিসহ দৈনন্দিন কাজে ভোগান্তির মুখে—বহু এলাকায় চুলা জ্বলে না, সিএনজি স্টেশনে লম্বা লাইন। সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী স্বল্প-মধ্য-দীর্ঘমেয়াদে প্রতিকারের মধ্যে রয়েছে ১০০ কূপ খননের পরিকল্পনা, বেগমগঞ্জ ও সুনামগঞ্জে ৭২৯ কোটি টাকায় পাঁচটি কূপ খননের প্রকল্প, চতুর্থ এফএসআরইউ স্থাপনের দরপত্র আহ্বান, মালয়েশিয়া থেকে আইওসিএল ট্যাংক নিরীক্ষা এবং পাইপলাইন ও কূপ ওয়ার্কওভারসহ আমদানির উৎস ও অবকাঠামো বহুমুখীকরণ।