দেশের শিল্প খাতে চলমান তীব্র গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে নিটওয়্যার পোশাক খাতের ৭৮ শতাংশ কারখানায় উৎপাদন আংশিক ব্যাহত হচ্ছে। বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) এক সাম্প্রতিক জরিপে এই উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। জ্বালানি সংকটের জেরে নিটিং, ডায়িং এবং সেলাই কারখানার মতো গুরুত্বপূর্ণ শাখাগুলোতে উৎপাদন প্রায় ৩৭ থেকে ৫১ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে। এর ফলে সামগ্রিক রপ্তানি কার্যক্রমে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে এবং অর্ধেকের বেশি কারখানার ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
বিকেএমইএর জরিপের তথ্যানুযায়ী, গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি এবং দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিংয়ের কারণে প্রায় ৯২ শতাংশ কারখানাকে অতিরিক্ত খরচ দিয়ে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মাত্রা তিনগুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় কারখানার স্বাভাবিক কর্মঘণ্টার অপচয় ঘটছে এবং প্রায় ৮৯ শতাংশ প্রতিষ্ঠান সময়মতো পণ্য সরবরাহ বা শিপমেন্ট করতে না পেরে ক্রেতার আস্থা হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছে। এছাড়া প্রায় ৬০ শতাংশ কারখানাকে বিদেশি ক্রেতাদের মূল্যছাড় দিতে হচ্ছে এবং আর্থিক ক্ষতির মুখে প্রায় ৫৯ শতাংশ কারখানা ব্যাংক ঋণ খেলাপি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পোশাক খাতের অন্য শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) অবশ্য জানিয়েছে যে জ্বালানির অভাবে সরাসরি রপ্তানি আদেশ বাতিলের কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য তাদের কাছে নেই। তবে তারা স্বীকার করেছে যে জ্বালানি সংকটের কারণে কারখানাগুলো তাদের মোট উৎপাদন সক্ষমতার মাত্র ৭০ শতাংশ ব্যবহার করতে পারছে। এর ফলে বাড়তি খরচে আকাশপথে বা এয়ার ফ্রেইটের মাধ্যমে পণ্য পাঠাতে বাধ্য হচ্ছেন অনেক উদ্যোক্তা। সম্প্রতি সরকারের শীর্ষ মহলের সঙ্গে বৈঠকের পর গ্যাসের পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতির দিকে গেলেও ঢাকার কারখানাগুলোতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
বিশ্লেষক ও উদ্যোক্তারা মনে করছেন, জ্বালানি ঘাটতির কারণে পোশাক খাতসহ দেশের সামগ্রিক মাঝারি ও ক্ষুদ্র শিল্প বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) পক্ষ থেকেও শিল্পের প্রাণশক্তি হিসেবে পরিচিত জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। শুধু তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নয়, বরং ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা মাথায় রেখে দীর্ঘমেয়াদি ও সুনির্দিষ্ট জ্বালানি পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর জোর দিচ্ছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা।