এক সময় দেশের শিল্পায়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে পরিচিত ছিল পাবনার লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাত। কফিল উদ্দিন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো ঐতিহ্যবাহী কারখানাগুলো বাইরের দিকে সফল উৎপাদনের চিত্র দেখালেও ভিতরে বাস্তবতা ভিন্ন—কারখানায় ২৭টি মেশিন সচল থাকা সত্ত্বেও মালিক গিয়াস উদ্দিন শিপলু আধুনিক স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতি, কাঁচামালের স্থিতিশীল সরবরাহ ও প্রক্রিয়াকরণ সুবিধার অভাবে ব্যবসা বাড়াতে পারছেন না। তিনি তৃতীয় প্রজন্মের উদ্যোক্তা হিসেবে কারখানাকে বড় করার সব স্বপ্নের কথা জানালেও বর্তমান বাজার পরিস্থিতি ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার সীমাবদ্ধতা সেই পরিকল্পনা থামিয়ে দিয়েছে।
জেলার মনোহরপুর, কুঠিপাড়া, লস্করপুর, সিংগা, হেমায়েতপুর ও বিসিক শিল্পনগরীতে বহু ছোট কারখানা আছে; বাবাইঞ্জিনিয়ারিংয়ের রবিউল ইসলাম ফরহাদ নিজের সঞ্চয়ে মেশিন কিনে আজ ১০ জনকে কাজ দিলেও প্রযুক্তিগত সহায়তা না থাকায় জাতীয় অটোমোবাইল শিল্পে প্রবেশ করতে পারছেন না। উদ্যোক্তারা বিদ্যুৎ বিভ্রাট, কাঁচামাল সংকট, পরিবহন খরচ ও ব্যাঙ্ক ঋণের উচ্চ সুদকে প্রধান বাধা হিসেবে nennen—তবে সরকার ও বেসরকারি সংস্থাগুলো যেমন বিসিক, এসএমই ফাউন্ডেশন, বিআইটিএসি ও স্থানীয় চেম্বার থেকে কিছু প্রশিক্ষণ ও ক্রেডিট সুবিধা বাড়লেও তা অনেকের জন্য পর্যাপ্ত নয়। বিআইটিএস সূত্রে জেলার ৩০০টির বেশি লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং কারখানা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। দেশের লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং বাজার প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকা মূল্যমানের এবং এটি জিডিপির প্রায় ৩% অবদান রাখে; দেশে ১৭৭টি ক্লাস্টারে প্রায় ৭০ হাজার কারখানা ছড়িয়ে আছে।
স্থানীয়রা বলছেন, একটি বিশেষায়িত ‘মোল্ডিং সুবিধা’ বা প্রযুক্তি কেন্দ্র তৈরি গেলে এবং শিল্পগুলোকে বড় বাজারে সংযুক্ত করার জন্য সফটওয়্যার ও সরঞ্জামগত সহায়তা, সহজ শর্তে পুঁজি ও সাশ্রয়ী ঋণ ব্যবস্থা অনেক সমস্যা সমাধান হবে। এসএমই মহাব্যবস্থাপক নাজিম হাসান ও বিসিকের উপমহাব্যবস্থাপক শামীম হোসেনের মতো কর্মকর্তারা উদ্যোগগুলোর প্রশংসা করলেও উদ্যোক্তারা চায় আরও ব্যাপক প্রযুক্তি ট্র্যানিং, কর্মশালা ও বিশেষ এলাকার ভিত্তিতে ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন গড়ে তোলা—নইলে এই সম্ভাবনাময় খাত অঙ্কুরেই থেমে যেতে পারে।