August 17, 2026, 9:10 pm
Title :
খালেদা জিয়া মৃত্যুবরণ করলেও পরাজিত হননি, কিন্তু হাসিনা পালিয়েছেন আরও এক বছর মন্ত্রিপরিষদ সচিব থাকছেন নাসিমুল গনি প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যাশিত গতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারছি না পৃথিবীর কোন দেশে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ হয় না, প্রশ্ন রিজভীর শেখ হাসিনা আসুক, বিএনপি এটাই চায়: নিলোফার চৌধুরী মনি ডা. দীপু মনিকে পাঁচ মামলায় জামিন কেন নয়, জানতে চান হাইকোর্ট ১৮০ দিনের মূল্যায়নের মুখে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা, রদবদল নিয়ে জল্পনা সরকারের দাবি শতভাগ সফলতা না এলেও আন্তরিকতা ছিল শতভাগ খালেদা জিয়ার আদর্শে জনকল্যাণে কাজ করতে হবে: আবু সুফিয়ান হবিগঞ্জে মিছিলের প্রস্তুতিকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাহদীসহ আ’ ট’ ক ৩

শেখ হাসিনার দিল্লির অনুষ্ঠানে সাতক্ষীরার অরিন, জানে না স্থানীয় পুলিশ

Reporter Name
  • Update Time : Sunday, August 9, 2026
  • 40 Time View

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৫ আগস্টের দিল্লি থেকে দেওয়া ভার্চুয়াল বক্তব্যের অনুষ্ঠানে উপস্থাপক হিসেবে সাতক্ষীরার তরুণ আবু ওবাইদাহ অরিনের উপস্থিতির বিষয়টি সামনে আসার পর স্থানীয়ভাবে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনুষ্ঠানের ভিডিও ও স্থিরচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যা থেকে তাকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। পরে স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে তার সাতক্ষীরার ঠিকানা ও পারিবারিক পরিচয় সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। তবে ওই অনুষ্ঠানে তার উপস্থিতির বিষয়ে কিছুই জানে না সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ।

অরিনের প্রায় ছয় মিনিটের বক্তব্যের একটি ভিডিও প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। ওই বক্তব্যে তিনি শেখ হাসিনার সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনকে ‘সন্ত্রাস’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে সমালোচনামূলক বক্তব্য দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

৫ আগস্ট নয়াদিল্লি থেকে শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল বক্তব্যের আয়োজনটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লি থেকে ওই বক্তব্যে শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং দেশে ফেরার ইচ্ছার কথা বলেন।

শেখ হাসিনার ওই অনুষ্ঠানে সাতক্ষীরার কোনো বাসিন্দা উপস্থাপক হিসেবে ছিলেন কি না, জানতে চাইলে সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম বলেন, এ বিষয়ে তারা অবগত নন। বিষয়টি জানতে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।

পরে সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি মাসুদুর রহমানের নাম্বারে কল দিলে তিনি প্রতিবেদকের কলটি কেটে দেন।

অর্থাৎ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে অরিনের উপস্থিতির দাবি থাকলেও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে এ বিষয়ে কোনো তথ্য নেই।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অরিনের নাম-পরিচয় ছড়িয়ে পড়ার পর শনিবার রাত ১২টার দিকে তার বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন প্রতিবেদক। সাতক্ষীরা সদর থানার পাশের মুনজিতপুর নিচুতলা এলাকায় তার বাড়ি বলে স্থানীয়রা জানান।

বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, মূল ফটক বন্ধ। তার বাবা আবু সোয়েব এবেলের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

অরিনের প্রতিবেশী ও স্থানীয় মুদি দোকানি শাহজাহান বলেন, অরিন নামের ছেলেটাকে অনেক দিন ধরে দেখি না। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের আগে শেষবার তাকে দেখেছি। এরপর আর দেখিনি। শুনেছি, সে ভারতে পড়াশোনা করে। তার বাবা-মা অবশ্য বাড়িতেই থাকেন।

পাশের আরেক দোকানিকে নয়াদিল্লির অনুষ্ঠানের একটি ছবি দেখানো হলে ছবিতে থাকা তরুণকে তিনি অরিন হিসেবে শনাক্ত করেন বলে দাবি করেন। তার ভাষায়, এ তো অরিন! এত বড় নেতা হয়ে গেছে দেখছি। একেবারে মন্ত্রীদের পাশে বসে আছে।

অরিনের বাবা আবু সোয়েব এবেলের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান জাহান প্রেসে গিয়েও তার বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হয়। সেখানে রাতের নিরাপত্তাকর্মী রমেশ চন্দ্র বলেন, এবেল সাহেব সাতক্ষীরাতেই থাকেন এবং মাঝে মাঝে প্রতিষ্ঠানে আসেন। তবে ওই রাতে সন্ধ্যার পর থেকে তাকে তিনি দেখেননি।

অরিনের পরিবারের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা সম্ভব না হওয়ায় তার বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় প্রকাশিত প্রেস কনফারেন্সে ভিডিওতে দেখা যায় প্রেস কনফারেন্সের শুরুর ২০ মিনিট পর প্রায় ছয় মিনিট অরিন ইংরেজিতে বক্তব্য দেন। বক্তব্যে অরিন বলেন, তিনি শেখ হাসিনাকে ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী’, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী’ ও আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করে তার সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন।

বক্তব্যে তিনি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, পদ্মা সেতু নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, একটি ‘পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের’ মাধ্যমে তরুণদের শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছে।

এরপর ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের প্রসঙ্গে গিয়ে অরিন সেটিকে ‘জুলাই-আগস্ট সন্ত্রাস’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি পুলিশের ওপর হামলা ও নিহত হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন এবং ৫ আগস্টকে পুলিশের জন্য উৎসর্গ করার কথা বলেন।

তবে তার বক্তব্যে পুলিশের নিহতের সংখ্যা হিসেবে ‘৩ হাজার ২০০-এর বেশি’ যে দাবি করা হয়েছে, তার পক্ষে প্রতিবেদকের হাতে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে সংখ্যাটি তাঁর বক্তব্যের দাবি হিসেবেই উপস্থাপন করা হলো।

অরিন তার বক্তব্যে রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট দেওয়ার অভিযোগ তুলে এটিকে বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে উল্লেখ করেন। এ ছাড়া আরসা, আরএসএ ও আরএসও নামের বিভিন্ন সংগঠনকে বাংলাদেশে প্রশিক্ষণ দেওয়ার দাবি করেন। মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ থেকে ‘৩৬ জনের বেশি সন্ত্রাসী’ যাওয়ার কথাও বলেন তিনি।

এদিকে, এসব বক্তব্যের সমর্থনে অনুষ্ঠানে কোনো তথ্য বা নথি উপস্থাপন করতে দেখা যায়নি। ফলে এগুলো অরিনের বক্তব্য ও দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

বক্তব্যের শেষদিকে অরিন শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি তার পাশে দাঁড়াবেন। তিনি দেশের ১৭ কোটি মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কথা বলেন এবং ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, জয় দেশরত্না শেখ হাসিনা’ স্লোগান দিয়ে বক্তব্য শেষ করেন।

স্থানীয় সূত্র ও পারিবারিক পরিচয় অনুযায়ী, আবু ওবাইদাহ অরিনের বয়স প্রায় ২৫ বছর। তিনি সাতক্ষীরা সদর থানার পাশের মুনজিতপুর নিচুতলা এলাকার বাসিন্দা এবং জাহান প্রেসের মালিক আবু সোয়েব এবেলের বড় ছেলে বলে স্থানীয়রা জানান। লেখাপড়ার জন্য অরিন ভারতে থাকেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে তার সঙ্গে সাবেক আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবির ঘনিষ্ঠতার আলোচনা রয়েছে। একই সঙ্গে তার পারিবারিকভাবে সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আইনজীবী সৈয়দ ইফতেখার আলীর পরিবারের সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে বলেও স্থানীয়ভাবে দাবি করা হয়।

শেখ হাসিনার দিল্লির ওই অনুষ্ঠানকে ঘিরে এরই মধ্যে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। সেই অনুষ্ঠানে সাতক্ষীরার একজন তরুণ উপস্থাপকের ভূমিকায় ছিলেন, এমন তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় পর্যায়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

বিশেষ করে অরিনের বক্তব্যে জুলাই-আগস্টের আন্দোলনকে ‘সন্ত্রাস’ হিসেবে উল্লেখ করা এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে সমালোচনামূলক মন্তব্য করার অভিযোগ বিষয়টিকে আরও আলোচনায় এনেছে।

তবে অরিন কীভাবে অনুষ্ঠানের উপস্থাপক হলেন, কার মাধ্যমে তিনি সেখানে যুক্ত হলেন, তিনি বর্তমানে কোথায় অবস্থান করছেন এবং অনুষ্ঠানের আয়োজকদের সঙ্গে তার সম্পর্ক কী, এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © ajkerdorpon.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com