September 12, 2026, 12:15 pm

প্রবীণদের সম্পত্তি দানের নতুন ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ও যুগোপযোগী

Reporter Name
  • Update Time : Wednesday, September 9, 2026
  • 19 Time View

সন্তান, নাতি-নাতনি কিংবা অন্যান্য নিকটাত্মীয়ের নামে সম্পত্তি লিখে দেওয়ার পর চরম অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তির শিকার হন বহু প্রবীণ মানুষ। অনেক সময় দেখা যায়, মূল্যবান স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের পর অকৃতজ্ঞ স্বজনরা তা বিক্রি করে দিচ্ছেন কিংবা বৃদ্ধ বাবা-মাকে নিজেদের বসতভিটা থেকে জোরপূর্বক বের করে দিচ্ছেন। এই ধরনের নির্মম বাস্তবতায় অসহায় প্রবীণদের আইনি সুরক্ষা দিতে সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও যুগোপযোগী সংশোধনী আনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও নিবন্ধন কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই নতুন বিধানটি সমাজের বয়স্ক জনগোষ্ঠীর মৌলিক অধিকার ও আবাসন নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এক বিরাট মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।

আইনের এই নতুন সংশোধনের ফলে এখন থেকে কোনো ব্যক্তি জীবদ্দশায় নিজের সম্পত্তি সন্তান বা প্রিয়জনকে দান করলেও দলিলের মধ্যে নির্দিষ্ট শর্ত জুড়ে দিতে পারবেন। এই ব্যবস্থাকে বলা হচ্ছে ভোগ-দখলের অধিকার সংরক্ষণসহ দান, যার মাধ্যমে দাতা যতদিন বেঁচে থাকবেন ততদিন পর্যন্ত ওই সম্পত্তির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে পারবেন। অর্থাৎ, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মালিকানা হস্তান্তর করা হলেও দাতা যতদিন জীবিত আছেন, ততদিন কেউ তাকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করতে পারবে না কিংবা তার সম্মতি ছাড়া সম্পত্তি হাতবদল করতে পারবে না। সবচেয়ে বড় কথা হলো, এই সুরক্ষা ব্যবস্থাটি কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের গণ্ডিতে আবদ্ধ নয়, বরং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের সকল নাগরিকের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হবে।

অতীতে প্রচলিত সাধারণ দানপত্র, হেবা কিংবা হেবার ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তর করার পর দানগ্রহীতা খুব সহজেই নিজের নামে নামজারি সম্পন্ন করতে পারতেন। এর ফলে পরবর্তীতে দানগ্রহীতা অসদুপায় অবলম্বন করলে দাতার নিজের বসবাস এবং ভোগ-দখলের অধিকার নিয়ে মারাত্মক জটিলতা তৈরি হওয়ার সুযোগ থাকত। এমনকি এমন পরিস্থিতিতে অসহায় প্রবীণ ব্যক্তিরা দলিল বাতিলের আকুতি নিয়ে সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে গেলেও সেখানে আইনি সীমাবদ্ধতার কারণে কোনো প্রতিকার পেতেন না। কারণ দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের নিবন্ধিত দলিল সরাসরি বাতিল করার কোনো আইনি এখতিয়ার নেই, এই জটিল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আদালতের শরণাপন্ন হতে হয়। ফলে জমি হস্তান্তরের সময় থেকেই দাতার ভোগ-দখলের অধিকার নিশ্চিত করার এই বিকল্পটি ভুক্তভোগী প্রবীণদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করবে।

অবশ্য সংশ্লিষ্টরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, নতুন এই পদ্ধতি চালু হওয়ার মানে এই নয় যে সম্পত্তি হস্তান্তরের পুরোনো ও প্রচলিত অন্যান্য মাধ্যমগুলো বাতিল হয়ে গেছে। মুসলিম ব্যক্তিগত আইনের হেবা, অন্যান্য ধর্মের বিধান অনুযায়ী দানের সুযোগ কিংবা আইনসিদ্ধ অন্য যেকোনো হস্তান্তর প্রক্রিয়া আগের মতো সম্পূর্ণ বহাল থাকবে। বরং এই নতুন সংযোজনটি সাধারণ মানুষের জন্য সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র এবং অতিরিক্ত আরেকটি নিরাপদ সুযোগ হিসেবে যুক্ত হয়েছে। বাংলাদেশ রেজিস্ট্রেশন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনসহ (বিআরএসএ) সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষ এই সময়োপযোগী ও বাস্তবসম্মত আইনি পদক্ষেপের জন্য সরকারের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © ajkerdorpon.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com