রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানে নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের একটি ঝটিকা মিছিলে বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটে। গত ১২ সেপ্টেম্বর ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়। পুলিশ জানায়, পূর্বানুমতি ছাড়া হঠাৎ করেই রাজপথে নেমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছিল একটি বিশেষ দলের কর্মীরা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন দুপুর পৌনে বারোটার দিকে গুলশানের ৩ নম্বর সড়কের একটি সরু গলিতে প্রায় দেড় থেকে দুইশ নেতাকর্মী জড়ো হন। তারা সেখানে ঝটিকা মিছিল বের করার উদ্দেশ্যে সমবেত হয়েছিলেন এবং সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দিতে শুরু করেন। এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার উপক্রম হলে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায় গুলশান থানা পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাদের শান্ত হওয়ার নির্দেশ দিলেও তারা তা উপেক্ষা করে উসকানিমূলক আচরণ অব্যাহত রাখেন।
পরিস্থিতি যখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়, তখন মিছিলকারীদের মধ্য থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে আকস্মিক ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জানমাল রক্ষার্থে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ বাধ্য হয়ে আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে দুটি রাবার বুলেট নিক্ষেপ করেন। পুলিশের এই হঠাৎ পাল্টা পদক্ষেপে মিছিলকারীরা দিকবেদিক ছুটিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন এবং মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
পরবর্তীতে ঘটনাস্থল ও এর আশপাশের বিভিন্ন অলিগলি থেকে তল্লাশি চালিয়ে সরাসরি মিছিলে অংশ নেওয়া ৩২ জনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ। এ সময় আটককৃতদের কাছ থেকে বিস্ফোরকদ্রব্য হিসেবে মোট পাঁচটি তাজা ককটেল জব্দ করা হয় যা পুলিশের রেকর্ডভুক্ত করা হয়েছে। ডিএমপির মিডিয়া উইং থেকে জানানো হয়েছে যে, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইনে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণের কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে।