September 12, 2026, 1:39 pm

ড্রোন হামলায় বন্ধ সৌদির পাইপলাইন, তেল বাণিজ্যে শঙ্কার ছায়া

Reporter Name
  • Update Time : Saturday, September 12, 2026
  • 1 Time View

সৌদি আরবের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনটিতে সম্প্রতি একাধিক ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই বড় ধরনের হামলার পর সার্বিক নিরাপত্তা ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাৎক্ষণিকভাবে পাইপলাইনের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পাইপলাইনের সার্বিক অবস্থা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করতে এবং এর নিরাপত্তা পুনরায় নিশ্চিত করতে বিশেষজ্ঞ দলগুলো দ্রুততার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।

ঘটনার বিষয়ে অবগত মার্কিন গোয়েন্দা ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পাইপলাইনের মূল কাঠামোর পাশাপাশি এর পাশে থাকা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পাম্প স্টেশনও হামলার শিকার হয়েছে। ঘটনার পর ধারণকৃত বিভিন্ন স্যাটেলাইট চিত্রে ক্ষতিগ্রস্ত পাম্প স্টেশনগুলোতে ভয়াবহ আগুন ও ঘন কালো ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে। তবে সৌদির জ্বালানি অবকাঠামোর এই প্রধান পাইপলাইনের মূল অংশ ঠিক কতখানি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট করা সম্ভব হয়নি। মার্কিন ও সৌদি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পার্শ্ববর্তী দেশ ইরাক থেকে উড়ে আসা ড্রোন দিয়েই এই আকস্মিক হামলাগুলো চালানো হয়েছিল।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের এই তেল অবকাঠামোয় হামলার ঘটনা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে নতুন করে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ইতোমধ্যেই ব্যারেলপ্রতি একশো ডলারের গণ্ডি অতিক্রম করেছে। আঞ্চলিক সংঘাত যদি আরও দীর্ঘায়িত ও বিস্তৃত হয়, তবে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ তেল উৎপাদক এই দেশটির উৎপাদন ও রপ্তানি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাছাড়া, হরমুজ প্রণালিতে সম্ভাব্য বাধা এড়াতে বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত এই পাইপলাইনটি বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে।

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনটি ঐতিহাসিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। হরমুজ প্রণালির বর্তমান জটিল পরিস্থিতির কারণে প্রতিদিন প্রায় পঞ্চাশ লাখ ব্যারেল তেল ট্যাংকারের পরিবর্তে এই পাইপলাইনের মাধ্যমে পরিবহন করা হচ্ছিল। তবে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে লোহিত সাগর অঞ্চলের বিভিন্ন জাহাজে হামলার হুমকি থাকায় এই বিকল্প পথটিও এখন ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পাইপলাইনটি কবে নাগাদ পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানায়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © ajkerdorpon.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com