September 12, 2026, 12:15 pm

কারিগরি ত্রুটিতে আদানির এক ইউনিট বন্ধ, বাড়ছে লোডশেডিং

Reporter Name
  • Update Time : Friday, September 11, 2026
  • 6 Time View

কয়লা সংকটের কাটিয়ে ওঠার পর ফের কারিগরি সমস্যার কারণে ভারতের ঝাড়খণ্ডের আদানিন বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে কেন্দ্রটির সামগ্রিক বিদ্যুৎ উৎপাদন উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস পেয়েছে এবং জাতীয় গ্রিডে বড় ধরনের সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব হিসেবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে লোডশেডিংয়ের মাত্রা অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও বিদ্যুৎ খাতের বিভিন্ন সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এবং পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন আগে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা ঝড়ের কারণে কয়লা আমদানিতে ব্যাঘাত ঘটায় আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন কিছুটা কমে গিয়েছিল। দীর্ঘ প্রায় এক মাস সীমিত পরিসরে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পর গত মাস নাগাদ কেন্দ্রটি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরে আসছিল। কিন্তু নতুন করে দেখা দেওয়া এই কারিগরি ত্রুটির কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর পুনরায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির প্রকাশিত পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পিক আওয়ারে আদানি থেকে প্রায় ১ হাজার ৪৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছিল। কিন্তু এর ঠিক দুই ঘণ্টা পর থেকেই বিদ্যুৎ সরবরাহে ক্রমাবনতি ঘটে এবং পরবর্তীতে তা অর্ধেকের নিচে নেমে আসে। সাধারণত যে সময়ে কেন্দ্রটি থেকে ১২০০ থেকে ১৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যেত, সেখানে উৎপাদন হ্রাসের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে তা ৭০০ মেগাওয়াটের কাছাকাছি বা তার চেয়েও কমে নেমে এসেছে।

বর্তমানে তীব্র গরম ও অতিরিক্ত চাহিদার বিপরীতে বিদ্যুতের জোগান কম থাকায় আদানির প্লান্টের একটি ইউনিট বন্ধ হওয়ার ধাক্কা সামলাতে হচ্ছে পুরো দেশকে। সার্বিক উৎপাদনে ঘাটতি তৈরি হওয়ায় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিংয়ের পরিমাণ বেশ বেড়ে গেছে। ইতোমধ্যে দেশের জ্বালানি সংকটের এই নাজুক পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড চাহিদা অনুযায়ী নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখতে গিয়ে মারাত্মক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করেছে যে, দ্রুত প্রয়োজনীয় মেরামত কাজ সম্পন্ন করে বন্ধ থাকা ইউনিটটি আবার চালু করা সম্ভব হলে সামগ্রিক বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। তবে ত্রুটিগ্রস্ত ওই ইউনিটটি কবে নাগাদ পুনরায় বাণিজ্যিক উৎপাদনে ফিরতে পারে, সে বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি। এর ফলে বিদ্যুৎ গ্রাহকদের আরও কিছুদিন এই ভোগান্তির মধ্য দিয়ে যেতে হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © ajkerdorpon.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com